ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তির ৯৯ শতাংশ শর্তই হলো দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখা।
গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ‘উপসাগরীয় অঞ্চল উন্মুক্ত করবে’ এবং এ কাজে অন্যান্য দেশও ‘সাহায্য করতে’ প্রস্তুত রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটি সহজ হবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এটুকুই বলব: আমরা খুব শীঘ্রই সেটি উন্মুক্ত করব।’ তবে কীভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চোকপয়েন্ট খুলে দেওয়া হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আরোপিত কোনো ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা মেনে নেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হলেও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য তারা ফি বা শুল্ক আরোপ করতে পারে। এ প্রসঙ্গে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে এয়ার ফোরস ওয়ানে ওঠার আগে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি এমনটি করে থাকে, তবে আমরা তা হতে দেব না।’
তিনি আরও বলেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়—এটাই হচ্ছে মূল বিষয়ের ৯৯ শতাংশ।’ তিনি যোগ করেন, ‘প্রণালীটি খুলে যাবে। আমরা যদি কেবল চলে আসি...নতুবা তারা কোনো অর্থ উপার্জন করতে পারবে না।’
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনো কার্যত স্থবির। এতে বিশ্বব্যাপী তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে, যা আগের দিনের পাঁচটির তুলনায় কম। সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু থাকা মাত্র ২২টি জাহাজ প্রণালীটি ব্যবহার করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, প্রণালীটি অবরুদ্ধ থাকায় ৩২৫টি ট্যাঙ্কারসহ ৬০০-এর বেশি জাহাজ এখনো পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে।
যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে শনিবার ইসলামাবাদে আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তবে আলোচনার শর্ত ও তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে এখনো পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে দুই দেশ।