জুন ২, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের বিষয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের ধৈর্যেরও সীমা আছে’। একই সঙ্গে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়া নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ফলে, কাগজে-কলমে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও মাঠপর্যায়ে সংঘাতের ঝুঁকি এখনো কাটেনি বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ওয়াশিংটনের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন মোহসেন রেজায়ি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানান, সামুদ্রিক অবরোধের ধারাবাহিকতা কিংবা লেবাননে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেবে না ইরান; কারণ তেহরানের ‘ধৈর্যেরও একটা সীমা রয়েছে’।
এর আগে তেহরান সতর্ক করেছিল, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী বিদেশি বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজকে অবশ্যই নতুন নির্দেশনা মানতে হবে, অন্যথায় সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়া নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনা শেষ হলেও তার কিছু আসে যায় না। তিনি আরও দাবি করেন, তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়েও তিনি চিন্তিত নন এবং অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনমনীয় অবস্থান দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ আরও সংকুচিত করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ের উত্তেজনা কমেনি। দক্ষিণ ইরানের গোরুক শহর এবং কেশম দ্বীপের রাডার ও ড্রোন স্থাপনায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা এমন একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে সফল আঘাত হেনেছে, যেখান থেকে ইরানের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালানো হয়েছিল।
ফলে, এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ও সামুদ্রিক বাণিজ্য। একদিকে হরমুজে বিদেশি জাহাজের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করছে ইরান, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যেকোনো সমঝোতার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও গভীর আলোচনার প্রয়োজন হবে।