সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের যুদ্ধে গাজার অবস্থা ভয়াবহ। অন্যদিকে গণহারে চাকরি থেকে অব্যাহতির সংবাদ পাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ইসরায়েলে প্রায় ১২ লাখ ফিলিস্তিনি রয়েছে। তারা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনিরা এখন ইসরায়েলের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কারণ যেকোনও সময়ে তারা কর্মচ্যুত হতে পারেন।
গত কয়েক দিনে কর্মক্ষেত্র থেকে সাময়িক অব্যাহতির বেশ কয়েকটি খবর পেয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, তাঁরা ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে সহকর্মীদের সাথে কথা বলেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন।
ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘুদের আইনি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘আদালাহ’–এর পরিচালক হাসান জাবারিন বলেন, কোনো কোনো কর্মী তিন–চার–পাঁচ বছর ধরে কাজ করছেন। তারা এখন চাকরিচ্যুত হওয়ার চিঠি পাচ্ছেন। চিঠিতে বলা হচ্ছে, শুনানি হবে। কিন্তু কবে শুনানি হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই। শুধু মত প্রকাশের জন্য এ ধরনের অন্যায়ের শিকার হওয়াটা দুঃখজনক।
আদালাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো থেকে অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে যে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের অপরাধ, তারা ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিল।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাজারেথের আরব ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের পরিচালক ওয়েহবে বাদারনি বলেন, তারা ৩৫ জনের কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগকারীরা বিভিন্ন হাসপাতাল হোটেল, গ্যাস স্টেশন, রেস্তোরাঁ এবং কলসেন্টারে কাজ করেন। তাদের বিরুদ্ধেও ‘সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্বাস্থ্যকর্মী আল জাজিরাকে বলেন, ‘শুধু ফিলিস্তিনি হওয়ার কারণে আমাকে প্রতিদিন লাঞ্চনা ও বঞ্চনার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আমি প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে অফিসে যাই। যেকোনো সময় চাকরি চলে যাওয়ার আতঙ্কে থাকি।’