মার্চ ১৯, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে আবারও হামলা হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় ইরানের গোয়েন্দা প্রধান ইসমাইল খাতিব নিহত হওয়ার পর এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত তিন সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশের জ্বালানি খাতে আঘাত হানাকে বড় ধরনের ভুল হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে প্রতিপক্ষ ও তাদের মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ওয়াশিংটনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি খাতে পড়তে শুরু করেছে। কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রে আগুন ধরে যায় এবং সেখানে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর কাতার দুই ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে।
সৌদি আরবও জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আসা কয়েকটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিয়াদের দক্ষিণে একটি শোধনাগারের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। নতুন করে সংঘাতের তীব্রতায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও প্রায় তিন শতাংশ বেড়েছে।
সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা বলে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গোয়েন্দা প্রধান ইসমাইল খাতিব হত্যাকে ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
চলমান এই সংঘাত ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বিদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এতে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবানন, ইরাকসহ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল বারো লেবানন সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে চলমান সংকট ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।