আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা অধিকাংশ বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে।
এই রায়কে কেন্দ্র করে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে গড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
ফেডারেল সার্কিট কোর্ট অব আপিলস ৭–৪ ভোটে রায়ে বলেছে, ট্রাম্প যে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করেছিলেন—এর মধ্যে বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ভিত্তিগত শুল্ক এবং একাধিক দেশের ওপর "পারস্পরিক" শুল্ক অন্তর্ভুক্ত—তা অবৈধ। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে এ ধরনের শুল্ক আরোপ করার কোনো ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। বরং এই পদক্ষেপকে আদালত আখ্যা দিয়েছে “আইনের পরিপন্থী অবৈধ উদ্যোগ” হিসেবে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, শুল্ক আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, আর ১৯৭৭ সালের আইইইপিএ আইনে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। আদালত লিখেছে, “যখনই কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে চায়, তখন তা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করে।”
আদালতের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে। রায়ের ফলে চীন, মেক্সিকো ও কানাডার ওপর ট্রাম্পের শুল্কসহ তার বৈশ্বিক “পারস্পরিক শুল্ক” বাতিল হবে। তবে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপিত শুল্ক বহাল থাকবে, কারণ তা ভিন্ন আইনের আওতায় আনা হয়েছিল।
রায়ের পর ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ আদালতের সমালোচনা করে লিখেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা “শব্দের আক্ষরিক অর্থে যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে।” তিনি দাবি করেন, এই শুল্ক দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
এই মামলা শুরু হয়েছিল ট্রাম্পের গত এপ্রিলে জারি করা নির্বাহী আদেশকে ঘিরে, যার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য আদালতে যায়। এর আগে একটি নিম্ন আদালত শুল্কগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল, যদিও আপিল প্রক্রিয়ার কারণে সেটি কার্যকর হয়নি।
আদালতে বাইডেন প্রশাসনের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, এসব শুল্ক হঠাৎ বাতিল হলে ১৯২৯ সালের শেয়ারবাজার ধসের মতো আর্থিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে “বিপর্যয়কর প্রভাব” ফেলতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিষয়টি এখন নিশ্চিতভাবেই সুপ্রিম কোর্টে যাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আদালত প্রেসিডেন্টের নীতি প্রণয়নে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। নয় সদস্যের এই আদালতে ছয়জন রিপাবলিকান নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি রয়েছেন, যার মধ্যে তিনজনকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন ট্রাম্প নিজেই। ফলে চূড়ান্ত রায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও নির্বাহী ক্ষমতার ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।