‘স্ট্রাটেজিক রিজার্ভ’ থেকে বাজারে তেল ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ২৬, ২০২৬, ১২:০১ পিএম

‘স্ট্রাটেজিক রিজার্ভ’ থেকে বাজারে তেল ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিজেদের জরুরি মজুদ থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর লক্ষ্যেই স্ট্রাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে এই তেল ছাড়া হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ গত কয়েক সপ্তাহে নানা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে, যাতে তাদের অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো যায়।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ৩০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছে, যার আওতায় সমুদ্রে থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি করা যাবে। এর মাধ্যমে চাপের মুখে থাকা বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে, ইরান-ইসরাইল সংঘাতের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ছাড় দেয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই সুবিধা শুধুমাত্র ২০ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে বোঝাই করা কার্গোগুলোর জন্য প্রযোজ্য।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকেও অপরিশোধিত তেল ছাড়া শুরু করেছে। দেশটি জানিয়েছে, সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের স্ট্রাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ১১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছেড়েছে, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

গ্লোবাল ইকোনমিক অ্যাডভাইজার্স-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম লি বলেন, ‘এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক সংকেত। বাজার সেই সংকেত অনুযায়ী যুদ্ধের প্রভাব মূল্যায়ন করছে।’

তিনি আরও জানান, যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১০–১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বহনকারী জাহাজের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা মূলত এশিয়ার জন্য বড় প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে, কারণ তারা তেল রপ্তানিকারক দেশ। লি-এর মতে, মজুদ থেকে তেল ছাড়ার উদ্দেশ্য মূলত বাজারকে আশ্বস্ত করা—যদি ইরানের তেল সরবরাহ বন্ধ থাকে, তাহলে মার্কিন তেল সেই ঘাটতি পূরণ করবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মূলত দাম স্থিতিশীল রাখতে হলে যুদ্ধের সময়কাল কমানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

Link copied!