প্রায় সাত বছর পর সৌদি আরবে ফের চালু হলো ইরানের দূতাবাস। সুপরিচিত এক শিয়া ধর্মীয় নেতার মৃত্যুদণ্ড সৌদি সরকার কার্যকর করার পর থেকে দেশটির সাথে ইরানের বৈরি সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা শক্রতা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন সংঘাতে পরস্পর বিরোধী পক্ষগুলোর পক্ষে অবস্থান নেয় এই দুই দেশ। তবে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হওয়ায় গতকাল বুধবার রিয়াদে ইরানি দূতাবাস খোলা হয়।
সৌদিতে ইরানের দূতাবাস চালু হওয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক করার পর্যায়ে আসতে শুরু করেছে। আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে চীনের। মূলত চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া এক চুক্তির আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্কে থাকা রিয়াদ ও তেহরান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম রয়টার্সের এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেন, “রিয়াদ ও জেদ্দায় দূতাবাস ও কনস্যুলেট চালু করার জন্য ইরানের প্রতিনিধি দলটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”
প্রসঙ্গত, সুপরিচিত এক শিয়া ধর্মীয় নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জেরে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের বিক্ষুব্ধ জনগণ তেহরানে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে হামলা চালায়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে রিয়াদ। শুধু তাই নয়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানী কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয় সৌদি সরকার। পাশাপাশি তেহরান থেকে নিজেদের দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে আসে। ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত ইরানি কূটনৈতিক মিশনটি বন্ধ ছিল।