ইউক্রেনের পক্ষে বর্তমানে দেড় শতাধিক ফরাসি নাগরিক রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। এর মধ্যে একজন প্রাণ হারিয়েছেন।স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতের নাম ও পরিচয় জানাননি তিনি।
তুরষ্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে জানা যায়, এই প্রথম বারের মতো ইউক্রেনে কোনা ফরাসি যোদ্ধা লড়াই করতে যেয়ে প্রাণ দিলেন। তবে গত ৩০ মে ফরাসি এক সাংবাদিকও রাশিয়ার হামলায় নিহত হন।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে রুশ বাহিনীর কামানের গোলায় ওই যোদ্ধা মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ফরাসি যুবকের পরিবারকে শোক জানিয়েছে দেশটির সরকার।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন শুরু হলে আনুমানিক দেড়শ ফরাসি যোদ্ধা ইউক্রেনের পক্ষে লড়াই করছেন।এছাড়া ইউক্রেনকে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স
প্রসঙ্গত, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কয়েক বছর আগে আবেদন করা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় মস্কো-কিয়েভের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। ন্যাটোর সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো।
তবে ওই কৌশল কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেতস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। এর দুদিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে।