ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলে ব্যস্ত শপিং সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। এর জন্য রুশ বাহিনীকে দায়ী করেছে ইউক্রেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুন) বিকেলে ইউক্রেনের পলতাভা অঞ্চলের ক্রেমেনচুক শহরের ব্যস্ত একটি শপিং সেন্টারে হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারপাশ। এ সময় সবাইকে ছোটোছুটি করতে দেখা যায়। মলটিতে তখন হাজারের বেশি মানুষ ছিলেন বলে জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণে তাই বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার পর দ্রুতই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করছেন শহরের মেয়র।
এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শপিংমলের হামলাটিকে ইউরোপের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্লজ্জ সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাধারণ নাগরিক নিহতের ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ক্রেমেনচুক শহরের শপিং সেন্টারে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া সম্প্রতি ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ সেনাদের হামলা জোরদার হওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে সোমবার ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন নিহতের খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।
গত এক সপ্তাহে কিয়েভের কয়েকটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায়ভার দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপিয়েছে রাশিয়া। সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষা দফতর দাবি করে, কিয়েভে অস্ত্র তৈরির কারখানা লক্ষ্য করেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল।