ইতালিতে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটে জয় পাওয়া কট্টর ডানপন্থী নেতা জর্জা মেলোনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।পাশপাশি তিনি মন্ত্রিপরিষদও গঠন করেছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবে।
আসছে সপ্তাহে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হবেন এই মন্ত্রিপরিষদ। আস্থাভোটে জয় পেলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মেলোনির নেতৃত্বাধীন সবচেয়ে কঠোর ডানপন্থী সরকার পাবে ইতালি।
মন্ত্রিপরিষদের তালিকা অনুযায়ি, মেলোনির ব্রাদার্স অব ইতালির থেকে নয়জন মন্ত্রী হচ্ছেন। আর পাঁচজন করে মন্ত্রী হচ্ছেনফরচা ইতালিয়া ও মাত্তেও সালভিনির দল থেকে। অন্যদিকে, মন্ত্রিপরিষদের অন্য পাঁচজন হচ্ছেন টেকনোক্রাট।
বিবিসির খবরে বলা হয়, জাংকার্লো জর্জিয়েত্তি দেশটির অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন। আর ফরচা পার্টির আন্তোনিও তইয়ানি সামলাবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইতালির ৬৮তম সরকারের প্রধান হচ্ছেন মেলোনি। এ সরকার ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের সাবেক প্রধান মারিও দ্রাগির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রশাসনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে। দ্রাগি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শেষ দায়িত্বের একটি পালন করতে শুক্রবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষিত মেলোনিকে কঠিন সব চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে; এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মন্দার হুমকি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও ইউক্রেইন যুদ্ধকে ঘিরে একটি ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা।
মেলোনির (৪৫) নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দল ব্রাদার্স অফ ইতালি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির ফরচা ইতালিয়া ও মাত্তেও সালভিনির লিগের সঙ্গে জোট বেঁধে গত মাসের জাতীয় নির্বাচনে জয় পায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ে সংশয়বাদী মনোভাব পোষণ করলেও ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন মেলোনি। তবে তাঁর মিত্রদের অবস্থান ভিন্ন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেরলুসকোনির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।