ইরানে এক নারী বিক্ষোভকারীকে পুলিশের যৌন নিপীড়ন!

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২২, ০২:৫৬ পিএম

ইরানে এক নারী বিক্ষোভকারীকে পুলিশের যৌন নিপীড়ন!

ইরানে চলমান বিক্ষোভের সময় ভিডিওতে এক নারী বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার সময় পুলিশকে যৌন নিপীড়ন করতে দেখা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ইরানী পুলিশের এ আচরণে ক্ষোভ জানিয়ে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন অনেকে। পুলিশপ্রধানের পদত্যাগও দাবি করেছেন কেউ কেউ। সরকারপন্থীদের কেউ কেউ এ ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছেন।

হিজাব বিতর্কে প্রচণ্ড বিক্ষোভ আর আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। রাজধানী তেহেরানসহ দেশটির ২০টিরও বেশি শহরে আরও তীব্র হচ্ছে হিজাববিরোধী আন্দোলন।পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট-এসব এখন ইরানের শহরে শহরে সাধারণ ঘটনা।

নারীদের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এখন অংশ নিচ্ছেন সর্বস্তরের জনগণ। ধীরে ধীরে সহিংস হয়ে ওঠা এই আন্দোলনে এরই মধ্যে ঝরে গেছে এক পুলিশসহ দুই শতাধিক লোকের প্রাণ।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজ থেকে আসা ২২-বছর বয়সী কুর্দি নারী মাসা আমিনি কোমায় তিন দিন কাটানোর পর হাসপাতালে মারা যান। আমিনি তার সাকাজের বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজধানী তেহরানে গিয়েছিলেন। এসময় 'অযথাযথ' হিজাব পরার কারণে পুলিশ তাকে আটক করে। অভিযোগ, তিনি নারীদের হিজাব বা চাদর দিয়ে চুল ঢেকে রাখা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরার আইন ভঙ্গ করেছেন। পুলিশের একটি ডিটেনশন সেন্টারে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরপরই তিনি কোমায় চলে যান এবং মারা যান। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরান এখন জ্বলছে। ে

ইরানের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভের অসংখ্য ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। সবশেষ ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে তেহরানের আর্জেন্টিনা স্কয়ার থেকে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বুলেটরোধী পোশাক ও হেলমেট পরা একদল নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রধান সড়কে এক নারীকে ঘিরে রেখেছেন।

এরপর দেখা যায়, ওই কর্মকর্তাদের একজন ওই নারীর ঘাড় চেপে ধরে পুলিশ সদস্যদের ভিড়ের মধ্যে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারীকে যখন টেনে একটি বাইকের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন কর্মকর্তাদের একজন পেছন থেকে তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করছেন।

ভিডিওতে যে নারীকে পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছিল, তাঁর মাথায় কোনো হিজাব ছিল না। ওই নারী পরে মাটি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে চলে যান।বিবিসির পারসি সংস্করণ বলছে, ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে তারা।

Link copied!