মে ২২, ২০২২, ১০:২৬ এএম
ইউক্রেনের মারিউপোলের আজাভস্টালের ঘাটি থেকে বন্দি হওয়া ইউক্রেনিয়ান সৈন্যদের ভাগ্য নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আত্মসমর্পনের পর তাদের ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি রাশিয়া।
রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় তাদের বন্দি রাখা হয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওই অঞ্চলের রুশপন্থী বিদ্রোহী নেতা ডেনিস পুশিলিন জানিয়েছেন, ২ হাজার ৪শ ৩৯ জন ইউক্রেনিয়ান সৈন্যকে বন্দি রাখা হয়েছে। যাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশী নাগরিকও রয়েছেন। তবে তিনি তাদের বিস্তারিত পরিচয় দেননি। গত ৩ মাস ধরে তারা ওই ঘাটিতে রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছিলো। শনিবার তাদের সর্বশেষ সৈন্যদল আত্মসমর্পন করলে মারিউপোলের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেয় রুশ সৈন্যরা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই শহরে গত কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলেছেন, মারিউপোলে ইউক্রেনের সৈন্যদের ওই আত্মসমর্পন পুতিনের জন্য ইউক্রেনের যুদ্ধ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সৈন্যদের আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
আজাভস্টালের ঘাটিতে যুদ্ধ করা ইউক্রেনিয় সৈন্যদের পরিবারের সদস্যরা তাদের মৌলিক অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। ইউক্রেনের সহকারী প্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচেক জানিয়েছেন, প্রত্যেক সৈন্যকে মুক্ত করতে ইউক্রেন চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক এবং লুহানৎস্ক অঞ্চলে রুশপন্থীদের উপর ইউক্রেনের সৈন্যদের অত্যাচারের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে-এমন একটি অভিযোগকে ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরু পেছনের কারণ হিসেবে জানায় কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়ার দখল রুশদের হাতে চলে যাওয়ার পর দোনেৎস্ক এবং লুহানৎস্ক অঞ্চলেও একই ধরণের বিক্ষোভ শুরু হয়। যে বিক্ষোভ দমনে কঠোর হতে দেখা যায় ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে।
এমন প্রেক্ষাপটে বন্দি ইউক্রেন সৈন্যদের পরিণতি খারাপ হতে পারে বলে একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সৈন্যদের রাশিয়ার কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনতে বন্দি বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অন্যদিকে পুতিন চাইছে ইউক্রেন আত্মসমর্পন করুক।