ক্যালিফোর্নিয়ায় ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প: নিহত ২, আহত ১১

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ডিসেম্বর ২১, ২০২২, ০৯:৪৭ এএম

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প: নিহত ২, আহত ১১

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে অন্তত দুজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও পানির সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎহীন রয়েছেন ১০ হাজার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল স্যান ফ্রান্সিসকোর ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরের হামবোল্ট কাউন্টি। ভূমিকম্পের বড় ঝাঁকুনির পরে অন্তত ছোট ছোট ৮০টি ঝাঁকুনি হয়।

ওই অঞ্চলে হরহামেশা ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে জানিয়ে রয়টার্স বলছে, সম্প্রতি বছরগুলোতে ওই অঞ্চলে বার বার ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। তবে মঙ্গলবারেরটি বেশ বড় আকারের ছিল।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ফায়ার প্রোটেকশন (ক্যালফায়ার) জানায়, মঙ্গলবারের কম্পনের ফলে একটি অবকাঠামোতে আগুন লাগে। তবে দ্রুত আগুন নেভাতে সক্ষম হয় দমকল বাহিনী। এ ছাড়া ভূমিকম্পে দুটি ভবন ধসে পড়ে।

ক্যালফায়ারের মুখপাত্র ট্রান বেয়াই বলেন, ‘ভূমিকম্পের পরপরই জরুরি পরিষেবা থেকে ৭০টি কল আসে। এর মধ্যে একজন লোক ধসে পড়া ভবনে আটকে পাড়ছে বলে খবর আসে। তবে ওই লোককে উদ্ধার করা হয়েছে।’

এ দিকে ভূমিকম্পের পরে ঈল নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিজে চারটি ফাটল দেখা যায়। পরে পুলিশ ওই ব্রিজটি দিয়ে পারাপার বন্ধ করে দেয়। ক্যালিফোর্নিয়ার হাইওয়ে পুলিশ বলছে, ব্রিজের পিচ ঢালাই রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, ভূমিকম্পে হামবোল্ড কাউন্টির অন্তত চারটি ব্যস্ত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই চারটি সড়কই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি একটি গ্যাস লাইনেও ফাটল দেখা দিয়েছে যা তদন্তাধীন রয়েছে।

ভূমিকম্পে ফার্ন্ডেল, ফরচুনা ও রিও ডেল শহরের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। শহরগুলোর পানি সরবরাহ লাইন বন্ধ রয়েছে। অন্তত দুই ডজন ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরকাটা শহরের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী ড্যানিয়েল হোলসাপেল বলেন, ‘কাঁপুনি সত্যিই তীব্র ছিল। আমি আমার পোষা বিড়ালকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। আমার মোবাইলে ইমাজেন্সি সতর্কবার্তা বেজে উঠে। মুহূর্তেই বিদ্যুৎ চলে যায়। কি ঘটছে তা কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। আমি শুধু বুঝছিলাম, আমার বাড়িটি কাঁপছে।’

স্থানীয় জরুরি পরিষেবার প্রধান মার্ক গিলারডুচি বলেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ার ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা কাজ করেছে বলে মনে হচ্ছে। প্রথম ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ার ১০ সেকেন্ড আগে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দার মোবাইলে ইলেকট্রনিক সতর্কতা পাঠানো হয়েছে।’

ক্যালিফোর্নিয়া ভূতাত্ত্বিক জরিপের জ্যেষ্ঠ ভূতত্ত্ববিদ সিনথিয়া প্রিডমোর বলেছেন, ‘সমুদ্রের তলদেশে বেশ কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের একত্রিত হওয়ার জন্যই মঙ্গলবারের কম্পনটি হয়েছে। ওই অঞ্চলটি ভূমিকম্প সক্রিয় এলাকা। এই অঞ্চলে বিগত শতাব্দীতে ৬-৭ মাত্রার প্রায় ৪০টি ভূমিকম্প হয়েছে।’

Link copied!