তুরস্কে ভূমিকম্প: ১২তম দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে যুবককে জীবিত উদ্ধার

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৩, ১০:১১ এএম

তুরস্কে ভূমিকম্প: ১২তম দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে যুবককে জীবিত উদ্ধার

শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে তুরস্ক ও সিরিয়ার বেশ কয়েকটি প্রদেশ। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশ দুটিতে মৃত্যুসংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। পুরোদমে চলছে উদ্ধার তৎপরতা। এরই মধ্যে তুরস্কে একের পর এক ‘অলৌকিক’ ঘটনা ঘটে চলেছে।  

ভূমিকম্পের প্রায় ১২তম দিনে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে হাকান ইয়াসিনওগলু নামে ৪৫ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারীরা। ধ্বংস্স্তূপের নিচে তিনি ২৭৮ ঘণ্টা চাপা পড়েছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়,   সিরিয়ার সীমান্তসংলগ্ন তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাতা প্রদেশে বাস করেন হাকান ইয়ানিওগলু।  তাঁকে উদ্ধারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া একটি ভবনের ভেতর থেকে স্ট্রেচারের মাধ্যমে বের করে আনছেন হাকানকে । এ সময় তাঁর গায়ে সোনালি রঙের একটি জ্যাকেট ছিল। হাকান যাতে পড়ে না যায় তার জন্য তাঁকে স্ট্রেচারের সাথে বেঁধে উদ্ধারকর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সে তোলেন। তবে তাঁর মুখ দেখা যায়নি ভিডিওটিতে। বর্তমানে হাকানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন।

এদিকে, তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের ১০টি প্রদেশ ও সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৪৮৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তুরস্কের ৩৯ হাজার ৬৭২ এবং সিরিয়ায় ৫ হাজার ৮১৪ জন। জাতিসংঘের ধারণা নিহতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তুরস্কের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩০ হাজার বাড়ি নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের পরিবেশ ও গৃহায়ণবিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম। আগামী মাস (মার্চ) থেকেই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। অন্যদিকে, সিরিয়ায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক এল-মোস্তাফা বেনলামিল জানান, দেশটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এক কোটির বেশি মানুষ। সংস্থাটির আশঙ্কা, দুই দেশে মৃত মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে এই ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। বেশিরভাগ মানুষ তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। বহুতল ভবন ধসে পড়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর। মোমের মতো ধসে পড়ে একাধিক ভবন। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ার বিস্তৃত এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মিসর, লেবানন ও সাইপ্রাস থেকেও কম্পন অনুভূত হয়।

Link copied!