তৃতীয় মেয়াদেও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শি জিনপিং!

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২২, ০৯:৫১ পিএম

তৃতীয় মেয়াদেও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শি জিনপিং!

রাজধানী বেইজিংয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস। প্রেসিডেন্ট শি তার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেছেন। পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তৃতীয় মেয়াদের জন্য পার্টির নেতা হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

কংগ্রেসে চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে দেশটির কর্তৃপক্ষ যে বিতর্কিত 'জিরো-কোভিড' নীতি অনুসরণ করছে তা অব্যাহত রাখা হবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জিনপিং।

'জিরো কোভিড নীতি অব্যাহত থাকবে'

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংএর 'জিরো কোভিড' নীতি একদিকে যেমন চীনে মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে - অন্যদিকে কঠোর লকডাউন ও লোক চলাচল-ভ্রমণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা মানুষের জীবনে বিরাট দুর্ভোগ ডেকে এনেছে, ক্ষতি হয়েছে অর্থনীতিরও । এসব কড়া বিধিনিষেধ নিয়ে মানুষের ক্ষোভ ক্রমশঃই বাড়ছে।

কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস শুরুর সময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই বেইজিংএ কিছু বিরল প্রতিবাদের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

অনলাইনে শেয়ার হওয়া ভিডিওতে একজন লোককে লাউডস্পিকারে শ্লোগান দিতে দেখা যায়, বেইজিংএ একটি ব্রিজে দেখা যায় দুটি প্রতিবাদসূচক ব্যানার ঝুলছে। একটি ব্রিজের ওপর থেকে ধোঁয়ার কুন্ডলিও পাকিয়ে উঠতে দেখা যায়, কিন্তু কি কারণে ধোঁয়া উঠছে তা জানা যায়নি।

ব্যানারগুলোতে প্রতিবাদী বার্তায় কোভিড বিধিনিষেধ অবসানের দাবি যেমন ছিল, তেমনি শি জিনপিংকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার আহ্বানের মতো রাজনৈতিক বার্তাও ছিল। এ ধরনের প্রতিবাদ খুবই বিরল - তবে প্রেসিডেন্ট শি এগুলো আমলে নিচ্ছেন না বলেই মনে হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, তার বিতর্কিত জিরো কোভিড কৌশল তিনি পাল্টাবেন না বা একে শিথিল করবেন না।

প্রেসিডেন্ট জিনপিং বলেন, এই জিরো কোভিড পলিসি দিয়েই চীনের মানুষ ভাইরাসের বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

তৃতীয় মেয়াদে পার্টির নেতৃত্বে জিনপিং

কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর চীনের সাত দশকের ইতিহাসে মাও জেদং ছাড়া আর কোন নেতাই কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে এত দীর্ঘ সময় নেতৃত্বে থাকেননি।

কিন্তু এটা হতে যাচ্ছে এবার, এবং পার্টির ডেলিগেটরা জিনপিংকে আরও পাঁচ বছরের জন্য কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হসেবে নির্বাচিত করবেন - এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

এর ফলে শি জিনপিং হবেন মাও জেদংএর পর চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা।

সম্প্রতি কয়েকদিনে আগে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি একটি ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ইশতেহারে শি জিনপিংকে  পার্টি ও নেতৃত্বের 'কেন্দ্রবিন্দু' বলে বলা হয় এবং তার পেছনে পার্টিকে একত্রিত হবার আহ্বান জানানো হয়।

জিনপিং এখন চীনের তিনটি সর্বাধিক ক্ষমতাধর পদে আছেন-চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, দেশটির সশস্ত্রবাহিনীর চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্ট। চীনের প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষেত্রেও আগে এমন নিয়ম ছিল যে এক ব্যক্তি দু মেয়াদের বেশি থাকতে পারবেন না। চীনের সংস্কারক নেতা দেং শিয়াও পিং এটা করেছিলেন এই জন্য যেন চীনে আর কখনো মাও জেদংএর মত একক নেতৃত্বের উত্থান না হয়।

কিন্তু চীনে নেতা হিসেবে শি জিনপিংয়ের উত্থানের পর ২০১৮ সালে দেশটির রাবার-স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট এ নিয়ম বিলোপ করে। ফলে কার্যত শি জিনপিং যতদিন খুশি প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন।

২০১২ সালে শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে চীন এমন এক পথ নিয়েছে - যা একদিকে উচ্চাভিলাষী - আর অন্যদিকে তেমনি কর্তৃত্ববাদী ।

তাইওয়ান প্রশ্নে আগের সিদ্ধান্তই বহাল

তাই্ওয়ান নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্বশাসিত তাইওয়ান দ্বীপটিকে চীন তার নিজের অংশ মনে করে এবং এটিকে তাদের মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত করার ব্যাপারটি বহুকাল ধরেই চীনের অন্যতম লক্ষ্য।

শি জিনপিং এ ব্যাপারে বলেছেন, তার দেশের 'পূর্ণাঙ্গ পুনরেকত্রীকরণ' অবশ্যই হবে এবং হতেই হবে, এবং "চীন এ জন্য শক্তি প্রয়োগ করবে না - এমন অঙ্গীকার কখনো করা হবে না।"এসময় কংগ্রেসে আগত ডেলিগেটরা অনেকক্ষণ ধরে করতালি দেন।সূত্র: বিবিসি বাংলা

Link copied!