অক্টোবর ২, ২০২২, ০৩:১৯ এএম
পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লিমান থেকে পিছু হঠেছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের এই দোনেৎস্কসহ চার অঞ্চলকে রুশ ফেডারেশনে যুক্ত করার চুক্তিতে স্বাক্ষরের এক দিন পর শনিবারই (১ অক্টোবর) শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিল ইউক্রেনের বাহিনী।
শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুতিন ইউক্রেনের খেরসন, জাপোরিঝঝিয়া, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা রুশ ফেডারেশনে যুক্ত করতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর একদিন পরই লিমানে ইউক্রেনের সেনারা ঢুকে পড়ে। এ সময় রুশ সেনারা পিছু হটে।
অবস্থা বিবেচনায় রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলের নেতা ও পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রমজান কাদিরভ বলেছেন, রাশিয়ার উচিৎ ইউক্রেনে স্বল্প পাল্লার পরমাণু বোমা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা। ইউক্রেনে রুশ সেনাদের বড় ধরনের পিছু হটার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার কাদিরভ এ মন্তব্য করেন।
ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল দখলে নেওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, খেরসন, জাপোরিঝঝিয়া, দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের বাসিন্দারা আজীবনের জন্য আমাদের দেশের নাগরিক হয়ে গেল। আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের দেশ রক্ষা করব।’
তবে পুতিনের ঘোষণার দিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। লিমান শহর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে তারা সেই ইঙ্গিত দিলেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও লিমান শহর থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, শহরটি ইউক্রেনের সেনারা ঘিরে ফেলেছে। তাই ঝুঁকি থাকায় সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফের পক্ষ থেকেও একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে এক ইউক্রেনীয় সেনাকে বলতে শোনা যায়, আজ ১ অক্টোবর আমরা নিজেদের ভূমিতে পতাকা তুললাম। লিমান ইউক্রেনেরই থাকবে।
লিমান শহরে রাশিয়ার ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার সেনা ছিল। শহরটি ঘিরে ফেলার পর ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর মুখপাত্র সেরি চেরেভাতি টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই পরিমাণ রুশ সেনা আর লিমান শহরে নেই। অনেকে মারা গেছেন, কেউ আহত হয়েছেন, আবার কেউ পালিয়ে গেছেন।