মার্চ ২, ২০২৩, ০৮:৩৫ পিএম
গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্য দিয়েই কার্যত ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। আর বেশ কিছু প্রার্থীই সে পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো তার দলের মনোনয়নের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। এর বাইরেও ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে চান।
আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ‘একদা বস’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিকি হ্যালি।নিকি হ্যালি বেশ পরিচিত নাম হলেও, প্রার্থী হিসেবে আকস্মিকভাবে নাম ঘোষণা করেছেন ভিভেক রামাসোয়ামি, যিনি তেমন একটা পরিচিত নন।

রামাসোয়ামির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা এবং তিনি পরিবর্তন আনতে পারবেন কিনা সেটি মূল্যায়ন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক সাংবাদিক সাভিতা প্যাটেল।
.রামাসোয়ামি, একজন ধনাঢ্য উদ্যোক্তা এবং ‘ওক, ইঙ্ক’ শীর্ষক বইয়ের লেখক। গত ২১ ফেব্রুযারি মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ শোতে নিজের রাজনৈতিক মতামত তুলে ধরার সময় ক্যামেরার সামনে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা ঘোষণা করেন।
কেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চান?
ফক্স নিউজকে ভিভেক রামাসোয়ামি বলেন, নতুন আমেরিকান স্বপ্ন নির্মাণে ‘সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ গড়ে তুলতে চান তিনি। যার ভিত্তি হবে 'দক্ষতা ও যোগ্যতা'। তিনি বলেন "মানুষের সাথে মানুষের যদি বন্ধন তৈরি করা না যায় তাহলে বৈচিত্র্য থাকা অর্থহীন"।
ওহাইওতে জন্ম নেওয়া সাঁইত্রিশ বছর বয়সী রামাসোয়ামি, হার্ভার্ড এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। বায়োটেকনোলজি উদ্যোক্তা হিসাবে লাখ লাখ ডলার উপার্জন করেছেন। এরপর একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন।

বর্ণবাদ এবং জলবায়ু নিয়ে কর্পোরেট বিশ্বের "ওকেইজম" এর বিরুদ্ধে বেশ সোচ্চার ভূমিকায় থাকা রামাসোয়ামির দাবি, এটি ব্যবসা এবং দেশ উভয়েরই ক্ষতি করছে।
রামাসোয়ামি মূলত ইএসজি (পরিবেশ, সামাজিক এবং কর্পোরেট গভর্নেন্স) উদ্যোগের বিরোধী। এর মাধ্যমে মূলত একটি কোম্পানির সামাজিক এবং পরিবেশগত প্রভাব পরিমাপ করা হয়।তিনি চীনের উপর মার্কিন অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমাতে চান।
রামাসোয়ামির মতামত কারো কারো সাথে মিলে যায়। যেমন সহকর্মী রিপাবলিকান বিক্রম শারামানির সাথে মেলে। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী মেয়াদে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে মার্কিন সেনেটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিক্রম শারামানি বলেন, “রামাসোয়ামি
খুবই হৃদয়গ্রাহী, স্পষ্টবাদী এবং চিন্তাশীল। হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও একইরকম "আমেরিকাকে আলাদা করার পরিবর্তে একত্রিত করা"।
জর্জ ডব্লিউ বুশের পর থেকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহকারী হোটেল ব্যবসায়ী ড্যানি গ্যাকওয়াড বলেন, " তিনি
যদি প্রথম দিকে তার উপস্থিতি জানান না দেন, তাহলে কেউ তার কথা জানতে চাইবে না।"যদিও মি. গ্যাকওয়াড প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রামাসোয়ামির সাহসের প্রশংসা করেন, তিনি বলেছেন যে, তার একটি কৌশল থাকা বেশ জরুরি – সেটি হল "ভারতীয়-আমেরিকানদের জন্য কিছু আছে"।

এর আগে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিকি হ্যালি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা জানান। শুধু তাই নয়, তিনি নির্বাচিত হলে চিন-পাকিস্তানের মতো ‘দুষ্টু’দের কোনও রকম সাহায্য করবে না আমেরিকা’ বলেও হুংকার দেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্টে’ তিনি লিখেছেন, ‘আমি সেই সব দেশকে বৈদেশিক সাহায্য করতে রাজি নই, যারা আমাদের ঘৃণা করে। শক্তিশালী আমেরিকা কখনও দুষ্টুদের অর্থসাহায্য করে না। গর্বিত মার্কিন মুলুক (US) তাদের নাগরিকদের কষ্টার্জিত অর্থ নষ্ট করতে চায় না। আমাদের সেই নেতাদেরই প্রয়োজন যারা শত্রুর সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায় এবং বন্ধুদের পাশে দাঁড়ায়।’

৫১ বছরের নিকি দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নরের দায়িত্ব সামলেছেন দু’বার। ছিলেন রাষ্ট্রসংঘের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূতও। প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নামার কথা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, ”আমি নিকি হ্যালি। এবং আমি প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নামছি। এটা নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের সময়। আর্থিক দায়িত্ব থেকে সীমান্তের নিরাপত্তা এবং দেশকে আরও মজবুত করা, আমাদের গর্ব ও উপলক্ষকে নতুন করে আবিষ্কার করার এটাই সময়।”