মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে সাবেক বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মা উত্তেজনা উসকে দিয়েছেন এবং সেজন্য তার পুরো দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেন, দেশে যা ঘটছে তার জন্য 'এককভাবে দায়ী' নূপুর শর্মা।
বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, আমরা তাকে (ওই টিভি বিতর্কে) কীভাবে প্ররোচিত করা হয়েছিল, তা দেখেছি। তবে তিনি যেভাবে কটূক্তি করেছেন এবং পরে জানিয়েছেন তিনি একজন আইনজীবী ছিলেন, তা লজ্জাজনক।
রাজস্থানের উদয়পুরে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে হত্যাসহ ভারতে এখন যা হচ্ছে তার জন্য শর্মাকে এককভাবে দায়ী করেছে আদালত।
মুসলমানদের মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তির জেরে উদয়পুরে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে দুই মুসলিম ব্যক্তি হত্যা করলে পুরো রাজ্যে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খুনিরা এ হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও অনলাইনে আপলোড করে।
এরপর আরেকটি ভিডিওতে তারা এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে এবং ভারী ছুরি প্রদর্শন করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হুমকি দেয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নিজের কৃতকর্মের জন্য নূপুর শর্মার দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করে আদালত।
বিচারপতি বলেন, তিনি (নূপুর শর্মা) একটি দলের মুখপাত্র হলে কী হবে। তিনি মনে করেন-তিনি ক্ষমতায় আছেন এবং দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে যেকোনো বিবৃতি দিতে পারেন।
জবাবে নূপুরের আইনজীবী বলেন, তিনি শুধু একটি টিভি বিতর্কের সময় উপস্থাপকের একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। আদালত বলেন, তাহলে উপস্থাপকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত ছিল।
নূপুরের আইনজীবী যুক্তি দিয়ে বলেন, এই ক্ষেত্রে নাগরিকদের কি কথা বলার অধিকার থাকবে না?
বিচারক কৌতুক করে জবাব বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকের কথা বলার অধিকার আছে। গণতন্ত্রে, ঘাস জন্মানোর অধিকার আছে এবং গাধারও খাওয়ার অধিকার আছে।
সুপ্রিম কোর্ট বলেন, তাকে (নূপুর) সাংবাদিকের পদে বসানো যাবে না। যখন তিনি টিভি বিতর্কে গিয়ে কটূক্তি করেন এবং সমাজের বুননে এর প্রভাব ও পরিণতির কথা চিন্তা না করে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেন।