পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২২, ০৭:২৭ পিএম

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস

সরকারের অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বরখান্ত করার পর দলের ভেতরে সৃষ্টি হওয়া প্রচণ্ড সমালোচনার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। মাত্র ৬ সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় বসেন তিনি। তাঁর পদত্যাগে ব্রিটেনের রাজনৈতেক ইতিহাসে লিজ ট্রাস হলেন সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন লিজ ট্রাস। বিবৃতিতে সদ্য পদত্যাগকারী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি যে জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তা তিনি দিতে পারেননি। তাই তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

‘ব্যাপক অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা’র সময়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণে তিনি দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করতে পারেননি বলেও ওই বিবৃতিতে জানান লিজ।

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় সপ্তাহের মাঝে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস মিনি বাজেট ও কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়ে তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়ে দেন। নিজ মন্ত্রিসভার প্রথম অর্থমন্ত্রী কোওয়ার্সি কোয়ারতেংকে সরিয়ে দেন। গতকাল বুধবার সরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যানকেও। তবে বিবিসি’র খবরে বলা হয়, সুয়েলা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।  এসব কারণে প্রশাসনের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে নজিরবিহীন তোলপাড় চলছিল। তার দলের এমপিদের মধ্যেও ঐক্য ও শৃঙ্খলার নাটকীয় ভাঙ্গনের মুখে ক্ষমতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। অপরদিকে, কনজারভেটিভ দলের অন্তত ১৩ জন সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসকে অপসারণের আহ্বান জানালে বেশ অস্বস্তির মুখে পড়েন তিনি।  

এদিকে, ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ইউগভ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে। তাদের চালানো জরিপে দেখা যায়, নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টির বেশিরভাগ সদস্য লিজ ট্রাসের পদত্যাগ চান।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, জরিপে অংশ নেওয়া কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের মধ্যে ৫৫ ভাগ লিজ ট্রাসের পদত্যাগ চেয়েছেন। তবে ৩৮ ভাগ সদস্য লিজ ট্রাসের পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, যেসব সদস্য গত সেপ্টেম্বরে লিজ ট্রাসকে দলীয় প্রধান পদে ভোট দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ৩৯ ভাগ তার পদত্যাগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্য ৫৭ ভাগ তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

ইউগভ বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ওপর চালানো জরিপে ৫৯ ভাগ সদস্য তার বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন। লিজ ট্রাস সম্পর্কেও প্রায় একইরকম ফলাফল পাওয়া গেছে।

জরিপে আরেকটি প্রশ্ন ছিল-যদি লিজ ট্রাস পদত্যাগ করেন তাহলে দলের নেতৃত্বে কাকে দেখতে চান তারা। এর জবাবে ৩২ ভাগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে দলের নেতৃত্বে দেখতে চান। অন্যদিকে, ২৩ ভাগ ঋসি সুনাককে, ১০ ভাগ বেন ওয়ালেসকে, ৯ ভাগ পেনি মরডান্টকে, ৮ ভাগ কেমি বাদেনোচকে এবং ৭ ভাগ জেরেমি হান্টকে কনজারভেটিভ দলের প্রধান হিসেবে দেখতে চান বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন।

প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করার পর সেপ্টেম্বরে কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা ঋষি সুনাক এবং লিজ ট্রাসের মধ্যে ভোটাভুটির মাধ্যমে লিজ ট্রাসকে দলের প্রধান নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন। দলের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হন লিজ ট্রাস। 

Link copied!