পাকিস্তানের রিজার্ভে মিটবে না তিন সপ্তাহের আমদানি ব্যয়ও

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৩, ১০:৩২ পিএম

পাকিস্তানের রিজার্ভে মিটবে না তিন সপ্তাহের আমদানি ব্যয়ও

অর্থনীতিসহ নানা সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কমেছে। কমতে কমতে দেশটির রিজার্ভ নেমেছে ৩১০ কোটি ডলারে। এই পরিমাণ রিজার্ভ দিয়ে দেশটির ১৮ দিনেরও কম সময়ের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব।

স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তানের (এসবিপি) সর্বশেষ ২৭ জানুয়ারির তথ্যের বরাতে বিশ্লেষকরা এমন ধারণা করছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডন।

পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংকের মতে, শুক্রবার রুপির মান আবার কমেছে। স্থানীয় মুদ্রা আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিপরীতে ২৭৬.৫৮ রুপি দাঁড়ায়। বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপি ছিল ২৭১.৩৬,  যা রুপির ইতিহাসে সর্বনিম্ন দাম। খোলা বাজারেও রুপির দাম কমেছে ০.১৮ শতাংশ।

গত বুধবার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাকিস্তানের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৪৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানি নাগরিকেরা মৌলিক খাদ্যদ্রব্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। দেশটিতে ডলারের বিপরীতে মুদ্রার মান রেকর্ড পর্যায়ে কমেছে। জরুরি খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধ ছাড়া এখন আর কোনো পণ্যের জন্য ঋণপত্র ইস্যু করছে না পাকিস্তান।

২০১৯ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আইএমএফের কাছ থেকে ঋণসহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন। তবে তিনি ভর্তুকি কমানোর মতো প্রতিশ্রুতিগুলো ফিরিয়ে নেন। এতে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। পরে গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি।

এদিকে অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণের আবেদন নিয়ে আলোচনায় আইএমএফ আরও ‘কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

শুক্রবার পেশোয়ারে এক বৈঠকে শাহবাজ শরিফ বলেন, এই মুহূর্তে আমরা কল্পনাতীত সঙ্কটের মধ্যে আছি। এই অবস্থায় ঋণ পেতে আইএমএফের যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে, তা ভাবার মতো অবস্থাও আমাদের নেই।

Link copied!