যুক্তরাজ্যের প্রিন্স চার্লস তার পরিচালিত একটি দাতব্য সংস্থার জন্য আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ওসামা বিন লাদেনের দুই সৎভাইয়ের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে ১০ লাখ পাউন্ড নিয়েছিলেন। লাদেন হত্যার দুই বছর পর লন্ডনে রাজকীয় বাসভবনে এই লেনদেন হয়।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গতকালে শনিবার এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজা প্রিন্স চার্লস সৌদি আরবের বিত্তশালী লাদেন পরিবারের অন্যতম সদস্য বকর বিন লাদেন ও তার ভাই সাফিক বিন লাদেনের কাছ থেকে এই অর্থ নিয়েছিলেন। প্রিন্স চার্লসের দাতব্য সংস্থা প্রিন্স অব ওয়েলস চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের (পিডব্লিউসিএফ) জন্য ওই অর্থ নেওয়া হয়েছিল।
২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর লন্ডনে রাজকীয় বাসভবন ক্লারেন্স হাউসে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করেন ৭৬ বছর বয়সী বকর বিন লাদেন ও তার ভাই সাফিক বিন লাদেন।
এর দুই বছর আগে ২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানের ইসলাবাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে নিহত হন টুইন টাওয়ার হামলার ‘হোতা’ আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন। জঙ্গিসংশ্লিষ্টতায় অর্থায়নের অভিযোগ নেই বকর বিন লাদেন ও সাফিক বিন লাদেনের বিরুদ্ধে।
অনুদান জমা হওয়া দাতব্য সংস্থা পিডব্লিউসিএফের চেয়ারম্যান আন চ্যাশায়ার বলেন, ‘শেখ বকর বিন লাদেন ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে ২০১৩ সালে গ্রহণ করা অর্থ যথেষ্ট পর্যবেক্ষণ শেষে নেয়া হয়েছিল। সংস্থাটির ট্রাস্টিদের সম্মতিতে নেয়া হয়েছিল এই অর্থ। এর সঙ্গে প্রিন্স চার্লসের এক সিদ্ধান্তকে জড়ানোর চেষ্টা হবে বিভ্রান্তিকর ও অন্যায্য।’
অনুদানের অর্থ নেওয়া প্রসঙ্গে ক্লারেন্স হাউসের মুখপাত্র বলেন, “অনুদানের এই অর্থ যথার্থ পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে নেয়া হয়েছে। প্রিন্স চার্লস নয়, এটি করা হয়েছে ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তে।”