ভূমিবেষ্টিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। শনিবার এবং রবিবার সারারাত ধরে বন্দুকধারীরা সীমান্তবর্তী সেনো প্রদেশের সেটেঙ্গায় এ হামলা চালায়। সরকারের মুখপাত্র লিওনেল বিলগো জানিয়েছেন, ওই এলাকার যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এ ধরণের হামলা চালিয়েছে, তাদের সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদা এবং আইএস এর যোগাযোগ রয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যম। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১০০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, মৃতের সংখ্যা দেড় শতাধিক।
জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত সপ্তাহে সেতেঙ্গায় পুলিশ এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১১ পুলিশ সদস্য নিহত হয়। এ ঘটনার পর পাল্টা সামরিক অভিযানে ৪০ বিদ্রোহী নিহত হয়।
গত জানুয়ারিতে দেশটির নির্বাচনী প্রেসিডেন্ট রচ মার্ক ক্রিস্টিয়ান ক্যাবরকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বেশ কয়েকবার হামলা হয়েছে, যার মধ্যে গত সপ্তাহের হামলা ছিলো সবচেয়ে রক্তাক্ষয়ী হামলার একটি। দেশটির নতুন স্ট্রংম্যানখ্যাত লেফটেন্যান্ট কর্নেল পল হেনরি স্যানড্যাগো ড্যামিবা জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০১৫ সাল থেকে দেশটিতে বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর নিজেদের মধ্যে এবং জঙ্গিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। বুরকিনা ফাসোর সাহিল রাজ্যে ৭ বছর ধরে প্রভাববিস্তার করে রাখা জঙ্গি গোষ্ঠী আনসারুল ইসলামের দাপট ক্রমেই আরও বাড়ছে। তাদের ভয়ে ২০১৫ সালের পরে দেশটি ছেড়ে পালিয়েছে ১৯ লাখ মানুষ। সংঘর্ষের ঘটনায় গত জানুয়ারি থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারেরও বেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। ২০১৫ সালের পর থেকে এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো বুরকিনা ফাসোর সশস্ত্র বাহিনী এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ৫৫০টি মতো হামলা চালিয়েছে।