জানুয়ারি ২২, ২০২৩, ০৪:১৯ পিএম
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর বিভিন্ন ভবনের ছাদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজে এ দৃশ্য দেখা গেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রেমলিন রাশিয়ায় সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না? তবে ক্রেমলিন এসব ছবি নিয়ে এখনো নিশ্চুপ।
ছবিতে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি বাসভবন থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে পানশির-এস১ বিমান-বিধ্বংসী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রণালয়ের ছাদেও এই বিমান-বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখা গেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দেখে মনে হচ্ছে-মন্ত্রণালয়ের প্রধান ভবনের ছাদে শুক্রবার বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র দেখা গেছে।
মস্কোয় হামলা হতে পারে কি না, শুক্রবার এই প্রশ্ন করা হয়েছিল ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভকে। তবে তিনি এ প্রশ্ন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে করতে বলেন।
পেসকোভ বলেছেন, ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাধারণত দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। বিশেষ করে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তারা। তাই এ ব্যাপারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জিজ্ঞেস করলে ভালো হবে।’
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা অ্যান্তন গেরাশেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘এসব কী হচ্ছে, আমি তো অবাক হচ্ছি।’
ভিডিওতে দেখা যায়, পুতিনের বাসভবনের আশপাশে একটি বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কোর উত্তরে লজিনি অস্ট্রভ নামের একটি পার্ক এবং রাজধানীর একটি কৃষি ইনস্টিটিউটে একাধিক এস–৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করতে দেখা গেছে। ভূমি থেকে আকাশে ক্ষেপণযোগ্য এস–৪০০ রাশিয়া তথা সারা বিশ্বের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
কী কারণে রাশিয়া সরকারি স্থাপনায় এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করল সে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মাইকেল হোরোইজ।
তিনি টুইটারে লিখেছেন, মস্কোতে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী হামলা করতে পারে এমন একটি আশঙ্কা রয়েছে রাশিয়ার। তাই সতর্কতার অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে দেশটি।
আরেকটি হলো রাশিয়ার নেতৃবৃন্দ অভ্যুত্থানের ভয় পায়। যদিও এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
গত তিন মাসের মধ্যে রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত বিমান ঘাঁটিতে একাধিকবার ড্রোন হামলা হয়েছে। এসব হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে মস্কো।
প্রায় ১১ মাস ধরে হামলা চালিয়েও রাশিয়া ইউক্রেনের সামান্য অংশ কবজা করতে পেরেছে৷ যুদ্ধে আনুমানিক প্রায় এক লাখ রুশ সৈন্য নিহত বা আহত হয়েছেন৷ পশ্চিমা বিশ্বের সহায়তায় ইউক্রেন প্রবল সাহস দেখিয়ে রাশিয়ার মোকাবিলা করে চলেছে।
এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও অন্তত প্রকাশ্যে অবিচল অবস্থান দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে রুশ নেতৃত্ব৷ আর সেই কারণেই একের পর এক অভিসন্ধি চালানো হচ্ছে। বেরিয়ে আসছে নতুন কৌশল।