মাহশা আমিনীর মৃত্যু: চুল কেটে প্রতিবাদ জানালেন ফরাসি অভিনেত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২২, ০৭:০০ পিএম

মাহশা আমিনীর মৃত্যু: চুল কেটে প্রতিবাদ জানালেন ফরাসি অভিনেত্রী

হিজাব বিতর্কে পুলিশের হেফাজতে মাহশা আমিনী নামে ইরানী তরুণীর মৃত্যুতে নিজের চুল কেটে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অস্কারজয়ী ফ্রান্সের জনপ্রিয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দুই অভিনেত্রী জুলিয়েট বিনোচে ও ইসাবেল আন মেদেলিন হুপার্ট।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজ থেকে আসা ২২-বছর বয়সী কুর্দি নারী মাহশা আমিনী কোমায় তিন দিন কাটানোর পর হাসপাতালে মারা যান। আমিনী তাঁর সাকাজের বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজধানী তেহরানে গিয়েছিলেন। এসময় 'অযথাযথ' হিজাব পরার কারণে পুলিশ তাঁকে আটক করে। অভিযোগ, তিনি নারীদের হিজাব বা চাদর দিয়ে চুল ঢেকে রাখা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরার আইন ভঙ্গ করেছেন। পুলিশের একটি ডিটেনশন সেন্টারে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরপরই তিনি কোমায় চলে যান এবং মারা যান। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরান এখন জ্বলছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, চিত্র সাংবাদিকদের সামনে জুলিয়েট বিনোচে একমুঠো চুল ধরে তা কেটে ফেলেন। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কান, বার্লিন ও ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা অভিনেত্রীর খেতাব পাওয়া প্রথম অভিনেত্রী হিসেবে ইউরোপীয় ‘সেরা অভিনেত্রী ত্রি-মুকুট’ জয়ী জুলিয়েট জানান, ‘স্বাধীনতার’ জন্যই তিনি চুল কেটে ফেলেছেন।

এর আগে, ম্যারিয়ন কোটিলার্ড, ইসাবেল আদজানিসহ ফ্রান্সের প্রথম সারির অভিনেত্রী ও গায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত অভিনেত্রী ও গায়িকাদের সঙ্গে একটি কনসার্টে যোগ দেন জুলিয়েট বিনোচে। এসময় তারা ‘বেলা সিয়াও’নামে ইতালিয় ভাষায় গাওয়া প্রতিবাদী গানটির ফার্সি ভাষায় পরিবেশন করেন।  

হিজাব বিতর্কে প্রচণ্ড বিক্ষোভ আর আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ এখন ইরান। রাজধানী তেহেরানসহ দেশটির ২০টিরও বেশি শহরে আরও তীব্র হচ্ছে হিজাববিরোধী আন্দোলন।পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট-এসব এখন ইরানের শহরে শহরে সাধারণ ঘটনা।

পুলিশ হেফাজতে মাহশা আমিনীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানি নারীদের বিক্ষোভ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লন্ডন, প্যারিস, রোম, মাদ্রিদসহ বড় বড় শহরে প্রতিবাদ সভা করেছে সংশ্লিষ্ট দেশের নারীরা।

ফরাসি আইনজীবী রিচার্ড সেডিলট রয়টার্সকে বলেন, “ইরানি নারীরা তাদের আন্দোলনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সমর্থন আশা করে। তাদের পক্ষে সমর্থন দেখানো এটি (ফরাসি অভিনেত্রীদের চুল কেটে ফেলা) একটি সুন্দর উপায়।  

ইরানি নারীদের এই আন্দোলনে পুরুষদেরও সমর্থন জানানো দরকার মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি প্রথম পদক্ষেপ, আমি আশা করি বিশ্বের সবাই এটি অনুসরণ করবে। শুধুমাত্র নারীরা নয়, পুরষরাও প্রতিবাদ জানাতে চুল কাটতে পারেন। আমি মনে করি অচিরেই এটি ঘটবে।”

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর ১৯৭৯ সাল থেকে নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। সম্প্রতি ইরানের কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির নারীদের পোশাক নিয়ে কড়াকড়ি বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের মাথায়ই মাহশা আমিনীর মৃত্যু ঘটে।

Link copied!