অক্টোবর ১০, ২০২২, ০৭:১০ পিএম
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে একসঙ্গে শতাধিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। রুশদের দখল ও নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রাইমিয়ার সেতুতে বিস্ফারণের দুদিন পর রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে তীব্র মিসাইল হামলা চালিয়ে জবাব দিলো পুতিন বাহিনী।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ বাহিনীর ৭৫টি মিসাইল আঘাত হানে। মিসাইল হামলায় জ্বলছে শহরটি। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সময় সোমবার ভোর বেলা থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের বিভিন্ন শহর। পোল্যান্ডের সীমান্ত ঘেষা লভিভেও হামলা চালায় পুতিন বাহিনী। এছাড়া, যুদ্ধের সম্মুখভাগে অবস্থিত দিনিপ্রো নদীর কাছেও মিসাইল হামলা হয়। বাদ যায়নি খারকিভও।
আরও পড়তে পারেন-ইউক্রেনে জার্মান দূতাবাসে রুশ মিসাইল হামলা
সোমবার দফায় দফায় বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয় কিয়েভ। রুশ বাহিনীর তাণ্ডব চলে খারকিভ, জাপোরিঝিয়া, নিপ্রোসহ অন্তত ১০ অঞ্চলে। চলে মিসাইল হামলায় উড়ে গেলো কিয়েভের জনপ্রিয় ক্লিচকো ব্রিজ।
ইউক্রেনের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৮৩টি মিসাইল ছুড়েছে রুশ বাহিনী। এ পর্যন্ত আট জনের মৃত্যু ও ২৪ জন আহতের খবর নিশ্চিত করেছে জেলেনস্কি প্রশাসন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বহু বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির জরুরি নিরাপত্তা বিভাগ বলছে, স্থানীয় সময় সকাল আটটার পর থেকেই চলে একের পর এক বিস্ফোরণ। হামলার দেড় ঘণ্টা আগে বাসিন্দাদের সতর্ক করতে বাজানো হয় সাইরেন। সাইরেন বাজানোর দেড় ঘন্টার মধ্যেই ধ্বংসের নগরীতে পরিণত হয় কিয়েভ।
আরও পড়তে পারেন-রাশিয়ায় আবারও হামলা হলে এর জবাব হবে ভয়াবহ: পুতিন
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ হামলার শিকার দেশটির প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এ সময় তিনি রুশ প্রেসিডেন্টকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেন।

ইউক্রেনের রুশ মিসাইল হামলায় ঝাপোরিঝিয়ার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি।ছবি: সংগৃহীত
জেলেনস্কি আরও বলেন, ডজন ডজন মিসাইল আর ইরানের শহিদ ড্রোন থেকে হামলা হয়েছে। তাদের প্রথম টার্গেট বিদ্যুৎকেন্দ্র। দ্বিতীয় টার্গেট জনগণ। তারা আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে চায়। যত বেশি সম্ভব ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। তবে আমরাও ইউক্রেনের নাগরিক। যতই হামলা চালাক জয়ের বিষয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করতে পারবে না।” আরও মিসাইল হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের বোম্ব শেল্টারে থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, কিয়েভে মস্কোর মিসাইল হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অন্যদিকে, চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়ার ঘনিষ্ট মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত চীন।

প্রসঙ্গত, ক্রিমিয়ারে গত ৮ অক্টোবর হামলার ঘটনাকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। যার কড়া জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পুতিন বলেন, সব তথ্যপ্রমাণ নিশ্চিত করছে ৮ অক্টোবরের বিস্ফোরণ ছিল সন্ত্রাসী হামলা। উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। ইউক্রেনের ওই হামলার জবাবে সোমবার রাজধানী কিয়েভেসহ বিভিন্ন শহরে মিসাইল হামলা চালায় রুশ বাহিনী।