ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৩, ১০:০৭ এএম
শক্তিশালী ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গেছে তুরস্ক-সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহর। দেখলে মনে হবে যেনো ধ্বংসস্তুপ। উদ্ধার কাজ চলছে পুরোদমে। মৃত্যুমিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মরদেহ। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই তুরষ্কের। দেশটিতে সাত দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সিরিয়ায়ও লাফিয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। এমতাবস্থায় দুই দেশে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ-ইউএসজিএস।

স্থানীয় সময় সোমবার। রাত সোয়া ৪টায় সবাই যখন ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন, ওই সময় দানবীয় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে তুরষ্কের মধ্যাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি প্রদেশে। একই সময়ে সীমান্ত সংলগ্ন সিরিয়ার আলেপ্পোসহ বেশ কয়েকটি শহরে এর নারকীয় তাণ্ডব চলে। আহত ও নিহতদের স্বজনদের আর্তচিৎকারে যখন তুরষ্ক ও সিরিয়ার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে, ঠিক তখনি দুপুরের দিকে দ্বিতীয় দফায় ৭ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শহরে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে উদ্ধার কাজে বাদ সেধেছে প্রতিকূল আবহাওয়া। শীতকালীন তুষারঝড়ের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তুষারে অনেক সড়ক ঢেকে গেছে।
তুরষ্কে এটি স্মরণ কালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা। ৮৪ বছর পর আবার এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প প্রত্যক্ষ করলো দেশটি। এরকম আরও বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
জাপান ভূমিকম্প- ২০১১
২০১১ সালের ১১ মার্চ। জাপানে আঘাত হানে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প। এই ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামির ফলে ১৯ হাজার ৭৫৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ৬ হাজারের বেশি মানুষ। নিখোঁজ হয় আরও আড়াই হাজার। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল জাপানের একটি পারমাণবিক চুল্লী। সুনামিতে ভেসে যায় সমুদ্র উপকূলীয় একটি শহর।
নেপাল ভূমিকম্প- ২০১৫
২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল হিমালয় কন্যা নেপালে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে পাশের ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশেও কম্পন অনুভূত হয়। ভারতে ৭৮ জন, চীনে ২৫ ও বাংলাদেশে ৪জনসহ মোট ৭ হাজার ৭৫৯ জনের মৃত্যু হয় ওই ভূমিকম্পে। আর আহত হয় সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ।
হাইতি ভূমিকম্প-২০১০
২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি, ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে যায় পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র হাইতি। মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত থাকলেও দেশটির সরকার জানায়, ওই ভূমিকম্পে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। অনেকের মতে এই সংখ্যা সোয়া তিন লাখ। ভূমিকম্পে প্রতিবেশি দেশ কিউবা ও ভেনিজুয়েলাও কেঁপে ওঠে।
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প, ২০০৪
২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর। শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ। ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে এটি একটি। ৯ দশমিক এক মাত্রার ভূমিকম্পটি ৮ থেকে ১০ মিনিট স্থায়ি ছিল যা সবচেয়ে দীর্ঘতম সময়ের ভূমিকম্প। ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি ইন্দোনেশিয়াসহ, শ্রীলঙ্কা, ভারত, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, মাদাগাস্কার, সোমালিয়া, কেনিয়া, তানজানিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় দু'লাখ ত্রিশ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায়৷ এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় মারা যায় এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি।
চীনে ভূমিকম্প-২০০৮, ১৯৭৬, ১৫৫৬
চীনে সবচেয়ে বেশি এবং বড় ধরণের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২০০৮ সালের ১২ মে চীনের সিচুয়ান প্রদেশে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। সর্বকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের তালিকায় ১৮তম স্থানে থাকা এই ভূমিকম্পে অন্তত সাড়ে ৮৭ হাজার লোকের প্রাণহানী ঘটে। আহত হন প্রায় পৌনে চার লাখ। নিখোঁজ হন আরও ১৮ হাজারেরও বেশি।
এছাড়া, দেশটিতে ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই হপেই প্রদেশের থাংশান শহরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে মারা যায় প্রায় আড়াইলাখ মানুষ। আর ১৫৫৬ সালের ২৩ জানুয়ারি দেশটির শানঝি প্রদেশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৮ লাখ ৩০ হাজার জন প্রাণ হারায়। বলা হয়ে থাকে ওই প্রদেশের ৬০ ভাগ লোকই মারা যায় ভূমিকম্পে।