সেপ্টেম্বর ৬, ২০২২, ০৮:১১ পিএম
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা লিজ ট্রাস। মঙ্গলবার স্কটল্যান্ডের বালমোরালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দায়িত্ব বুঝে নেন কনজারভেটিভ পার্টির এ নেতা। এর আগে রানির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ক্ষমতা হস্তান্তরটি খুব যত্ন সহকারে করা হয়েছে বলে বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

সাধারণত নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান করা হয় লন্ডনের বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে। তবে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বর্তমানে রয়েছেন স্কটল্যান্ডের বালসোরাল প্রাসেদে রয়েছেন। গতকাল সোমবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর মঙ্গলবার স্কটল্যান্ডে ছুটে যান কনজারভেটিভ পার্টির নেতা লিজ ট্রাস।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বাকিংহাম প্যালেস জানায়, বরিস জনসন তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং রানি তা সদয়ভাবে গ্রহণ করেছেন । লিজ ট্রাস ও জনসন দুইজন আলাদা আলাদাভাবে বালমোরালে যান। সেখানে যাওয়ার আগে জনসন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে বিদায়ী ভাষণ দেন বরিস জনসন।ভাষণে ব্রেক্সিট, কোভিড টিকাসহ তার সরকারের নানা সফলতা ও ইউক্রেন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বরিস।
বক্তব্যে জনসন জানান, কীভাবে ব্রেক্সিট সফল করেছেন এবং দ্রুততম সময়ে বৃটিশ নাগরিকদের কাছে কোভিড টিকা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার সমালোচনা করে বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জ্বালানি সংকট দিয়ে যুক্তরাজ্যের জনগণকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারবেন না। নতুন সরকার এই সংকট কাটিয়ে উঠবে।”
নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন থাকবে জানিয়ে ত বরিস জনসন আরও বলেন, আমরা সব সমস্যা উৎরে যাব এবং সব দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠব। এ কাজের জন্য লিজ ট্রাসকে সমর্থন দেওয়ার সময় এখনই।
ট্রাসের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বর্ণিল। বামপন্থী পরিবারে জন্ম নেওয়া লিজ যুক্তরাজ্যের যেসব অঞ্চলে কনজারভেটিভদের ভোট দেওয়ার রীতি নেই সেসব অঞ্চলে বেড়ে ওঠেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি লিবারেল ডেমোক্র্যাটের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেন। ওইসময় দলটি ইংল্যান্ডের বড় বড় অঞ্চলগুলোর কনজারভেটিভ পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দল ছিল।
গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান লিজ ট্রাস। ব্রিটেনের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার আগে লিজ ট্রাস ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে সাফল্যের সঙ্গে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত দায়িত্ব সামলেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিজেই কনজারভেটিভ দলের সদস্যদের লিজকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আহবান জানিয়েছিলেন।
চলতি বছরের শুরুতে নানা কেলেঙ্কারির কারণে এবং একের পর এক মন্ত্রী পদত্যাগ করায় গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তার পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১০ প্রার্থী। চূড়ান্তভাবে টিকে যান সুনাক ও ট্রাস। দলের সদস্যদের ভোটাভুটির মাধ্যমে দুজনের মধ্যে একজনকে নির্বাচিত করা হয়।