জানুয়ারি ৮, ২০২৩, ০৯:০২ পিএম
ইউক্রেনে রুশদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রহানা ঠেকাতে এবার নতুন অস্ত্র হাতে পাচ্ছে ইউক্রেন। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হোক বা ড্রোনের আক্রমণ-সবই ভোঁতা করে দিতে কিয়েভের অস্ত্রভান্ডারে যোগ হচ্ছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বা প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহের কথা আগেই জানিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। এ বার জার্মানিও একই পথে এগোবে বলে জানিয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলস।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কী?
‘প্যাট্রিয়ট’ শব্দটি আসলে ‘ফেজ়ড অ্যারে ট্র্যাকিং রাডার ফর ইন্টারসেপ্ট অন টার্গেট’-এর সংক্ষিপ্তকরণ। এই সিস্টেমটির মূল লক্ষ্য স্থলভাগ থেকে আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্রহানা ঠেকানো।

মার্কিন কোম্পানি রেথিয়নের তৈরি এই প্যাট্রিয়ট সিস্টেমকে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের অত্যাধুনিক অস্ত্রের মধ্যে অন্যতম বলে ধরা হয়।
প্যাট্রিয়টের সফলতা
নব্বইয়ের দশক থেকেই প্যাট্রিয়টকে কাজে লাগিয়েছে আমেরিকা। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে সৌদি আরব, কুয়েত এবং ইজ়রায়েলকে রক্ষা করতে প্যাট্রিয়টের সাহায্য নেয় তৎকালীন বুশ প্রশাসন।
২০০৩ সালে ইরাকে হামলার সময়ও আমেরিকার তুরুপের তাস ছিল প্যাট্রিয়ট। আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে স্কাড নামে যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রকে হাতিয়ার করেছিল সাদ্দাম হুসেনের বাহিনী, সেগুলিকে আকাশপথে চিহ্নিত করে ধ্বংস করত সাঁজোয়া গাড়িতে থাকা এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

প্যাট্রিয়টের মতো চলমান ব্যবস্থাটিতে রয়েছে একটি শক্তিশালী রাডার, কন্ট্রোল স্টেশন, পাওয়ার জেনারেটর, ক্ষেপণাস্ত্র আটকানোর লঞ্চ স্টেশন-সহ অন্যান্য সহযোগী গাড়ি।
প্যাট্রিয়টের ব্যবস্থার মধ্যে কোন ধরনের ইন্টারসেপ্টর লাগানো রয়েছে, তার উপর এর কার্যকারিতা নির্ভর করেল যেমন, পিএসি-২ ইন্টারসেপ্টরে ব্লাস্ট-ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড রয়েছে। অন্য দিকে, পিএসি-২ ক্ষেপণাস্ত্রে আরও অত্যাধুনিক ‘হিট-টু-কিল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।প্যাট্রিয়টের রাডারের পরিসীমা ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি বলে জানা গেছে।

প্যাট্রিয়টের খরচ কত?
এক-একটি প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের খরচও চোখ কপালে তোলার মতো। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজ়িক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতে, প্যাট্রিয়টের একটি নতুন ব্যাটারির দাম ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি। এর সঙ্গে রয়েছে ৪০ কোটি ডলার মূল্যের সিস্টেম এবং ৬৯ কোটি ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র যা ব্যাটারির মধ্যে থাকে।
কোন কোন দেশে প্যট্রিয়ট আছে
বিশ্বে একমাত্র আমেরিকার কাছেই যে এই অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে, তা অবশ্য নয়। এই মুহূর্তে বিশ্বের ১৮টি দেশের জন্য ২৪০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম তৈরি করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেথিয়ন। সংস্থাটির দাবি, ২০১৫ সাল থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে ১৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রর আক্রমণকে ভোঁতা করতে সক্ষম হয়েছে প্যাট্রিয়ট।
রুশদের আক্রমণ ঠেকাতে পারবে প্যাট্রিয়ট?
ইউক্রেন সরকার আগেই জানিয়েছিল, আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের মাধ্যমে রুশদের মুহুর্মুহু আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গ়ড়ে তুলতে এ ধরনের আরও অস্ত্র প্রয়োজন।এখন পর্যন্ত ইউক্রেনীয়দের এক জোড়া ‘ন্যাশনাল অ্যাডভান্সড সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমস’ (নাসামস) দিয়ে সাহায্য করেছে আমেরিকা। প্যাট্রিয়ট হাতে এলে স্বাভাবিক ভাবেই ইউক্রেনীয়দের ক্ষমতা বাড়বে।

কামিকাজ়ে ড্রোনের মাধ্যমেই ইউক্রেনের বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় আঘাত হেনেছে রুশ সেনাবাহিনী। তবে যুদ্ধবিমান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি রাশিয়ার কামিকাজ়ে ড্রোনকেও ধ্বংস করতে সক্ষম প্যাট্রিয়ট।
কোটি কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট দিয়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা গেলে বহু ইউক্রেনীয়ের প্রাণরক্ষাও হবে বলে মত সে দেশের সরকারের। যদিও তাতে প্রায় ১১ মাস ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরবে না বলেও মনে করেন তাঁরা। কারণ, প্যাট্রিয়ট মূলত আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়।

এখনই কাজে লাগাতে পারবে না ইউক্রেন
যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিলেও এই মুহূর্তে তা কাজে লাগাতে পারবে না ইউক্রেন। কারণ এটি চালাতে কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ দরকার হবে ইউক্রেনিয় সেনাদের। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যাট্রিয়ট সিস্টেমকে প্রথমে জার্মানিতে পাঠানো হবে। সেখানেই এই সিস্টেম চালানোর প্রশিক্ষণ নেবে ইউক্রেনীয় সেনা।

প্যাট্রিয়ট চালানোর কাজে দক্ষ হতে মাসের পর মাস কেটে যেতে পারে। একটি প্যাট্রিয়টকে চালনা করতে একাধিক সেনার প্রয়োজন রয়েছে।
রুশ আক্রমণ ঠেকাতে দেশের কোন প্রান্তে অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট রাখা হবে সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কারণ রাশিয়া আগেই হুমকি দিয়েছে, প্যাট্রিয়টকে ধ্বংস করাও এ বার তাদের সেনাবাহিনীর লক্ষ্য হবে।