শ্রীলংকার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিনেশ চন্দ্র রূপসিংহে গুনাবর্ধনেকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। একই সঙ্গে তিনি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন যেখানে ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনই বিক্ষোভের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে পদত্যাগ করা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের খাস লোক হিসেবে পরিচিত।

গতকাল শুক্রবার রাজাপক্ষের দল শ্রীলংকা পদুজানা পেরামুনার (এসএলপিপি) এই নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একই দিন মন্ত্রিসভার ১৭জন সদস্যও শপথ গ্রহণ করেন।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৩ বছর বয়সী গুনাবর্ধনের শপথ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও আইনপ্রণেতা ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের সহপাঠী প্রধানমন্ত্রী গুনাবর্ধনেকে গণপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, প্রাদেশিক কাউন্সিল ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজধানী কলম্বোর রয়্যাল কলেজের সহপাঠী ছিলৈন রনিল বিক্রমাসিংহে ও গুনাবর্ধনে। রনিলের মতো তাকেও রাজাপক্ষে পরিবারের অনুগত হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
শ্রীলংকার মন্ত্রিসভার ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনই রাজাপক্ষের রাজনৈতিক দল পদুজানা পেরামুনার (এসএলপিপি) সংসদ-সদস্য। এছাড়া, প্রধান বিরোধী দল সমজি জনা বালাওয়েগার (এসজেবি) দুজন, ইলম পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (ইপিডি) একজন, শ্রীলংকা প্রিডম পার্টির একজন এবং শ্রীলংকা মুসলিম কংগ্রেসের একজন রয়েছেন।
অপর মন্ত্রীরা হলেন-ইলম পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (ইপিডি) ডগলাস দেবানন্দ (মৎস্যসম্পদ), এসএলপিপির সুশীল প্রেমজয়ন্ত (শিক্ষা), শ্রীলংকা প্রিডম পার্টির বন্দুলা গুনাবর্ধনে (পরিবহণ, মহাসড়ক ও গণমাধ্যম), এসএলপিপির কেহেলিয়া রামবুকওয়েলা (স্বাস্থ্য ও পানি সরবরাহ), এসএলপিপির মাহিন্দা অমরাবিরা (কৃষি, বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ), এসএলপিপির ড. বিজয়াদাসা রাজাপাকসে (বিচার, কারাগার ও সাংবিধানিক সংস্কার), এসজেবির হারিন ফার্নান্দো (পর্যটন ও ভূমি), এসএলপিপির রমেশ পাথিরানা (বৃক্ষরোপণ ও শিল্প), এসএলপিপির প্রসন্ন রানাতুঙ্গা (নগর উন্নয়ন ও আবাসন), এসএলপিপির আলী সাবরি (পররাষ্ট্র), এসএলপিপির বিদুর বিক্রমনায়েকে (বুদ্ধশাসন, ধর্মীয় ও সংস্কৃতি) এসএলপিপির কাঞ্চনা উইজেসেকেরা (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি) শ্রীলংকা মুসলিম কংগ্রেসের নাসির আহমেদ (পরিবেশ) এসএলপিপির রোশন রণসিংহ (ক্রীড়া, যুববিষয়ক ও সেচ), এসজেবির মনুষা নানায়াক্কারা (শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান), এসএলপিপির তিরান আলেস (জননিরাপত্তা) এবং এসএলপিপির নলিন ফার্নান্দো বাণিজ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর সবচেয়ে কষ্টদায়ক অর্থনৈতিক দুরবস্থায় পড়েছে শ্রীলংকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কায় গোতাবায়া রাজাপাকসের গঠন করা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন সহিংসতার পর্যায়ে পৌঁছালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে।
কিন্তু আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করতে থাকেন। গত ৯ জুলাই আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্টে ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা চালায়। ওইসময় গোতাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট বাসভবন থেকে পালিয়ে নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে আশ্রয় নেন। পরে গত ১২ জুলাই শ্রীলঙ্কার একটি সামরিক বিমানে পরিবার নিয়ে মালদ্বীপে পালিয়ে যান তিনি। মালদ্বীপের জনগণ ও দেশটিতে থাকা প্রবাসী শ্রীলংকানরা গোতাবায়া রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তিনি পরে সিংগাপুর চলে যান এবং সেখান থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে রনিলকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বানানো হয়। গত বুধবার পার্লামেন্টের ভোটে তিনিই নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।