অক্টোবর ২১, ২০২২, ০৮:২৩ পিএম
প্রায় ১১ ঘণ্টা আলোচনা করেও জ্বালানি গ্যাসের দাম নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অনেক বাকবিতণ্ডার পরও গ্যাসের দাম নির্ধারণে একমত হতে পারেনি তারা। তবে জ্বালানি সংকটের সমাধান খুঁজতে ইচ্ছা প্রকাশ ও দাম কমানোর জন্য একটি ‘রোড ম্যাপ’তৈরি করে বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা।
বৈঠক শেষে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি চার্লস মিশেল বলেন, ইউরোপের জ্বালানি সংকট সমাধানে তিনটি লক্ষ্য অর্জনের পক্ষে একমত হয়েছেন নেতারা। সেগুলো হলো- দাম কমানো, সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাহিদা কমানোর জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া।
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লেইন শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আশার কথা হলো, জ্বালানির দাম নিয়ে কাজ করার জন্য আমাদের কাছে এখন একটি ভালো ও শক্তিশালী ‘রোডম্যাপ’ রয়েছে।
জ্বালানির দাম কবে নাগাদ নির্ধারণ করা হবে এর কোনো সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে আগামী মঙ্গলবার লুক্সেমবার্গে ইউরোপিয়ান জ্বালানি মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় তা নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামসহ দেশগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান জনগণের ক্ষোভের মধ্যে অন্তত ১৫টি ইইউ দেশ গ্যাসের দামের সীমাবদ্ধতা চায়।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পূর্বে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন রাশিয়া থেকে ৪০ শতাংশ গ্যাস পেত। কিন্তু গত জুলাই থেকে ইইউ ১৫ শতাংশ গ্যাস কম নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ইইউ-এর এই পদক্ষেপে ক্ষুদ্ধ হয়ে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দাম বৃদ্ধি করে মস্কো। ফলে গত আগস্টে ইউরোপে গ্যাসের দাম রেকর্ড বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় গ্যাসের দাম ৩৪৩ ইউরোতে পৌঁছায়।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে যখন জার্মানির মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় গ্রাহকদের কাছে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহকারী নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।
এই মাসের শুরুর দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে দিয়েছিলেন, যদি মস্কোর গ্যাসের ওপর দামের ক্যাপ আরোপ করা হয় তবে সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেবে রাশিয়া।
রাশিয়ান গ্যাস জায়ান্ট গ্যাজপ্রমের প্রধান অ্যালেক্সি মিলারও গত সপ্তাহে জোর দিয়েছিলেন, এই ধরণের একতরফা সিদ্ধান্ত অবশ্যই চুক্তির প্রয়োজনীয় শর্তাবলীর লঙ্ঘন যার কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে।
সূত্র: আরটি, আলজাজিরা