৩২ বছর পর রাজীব গান্ধী হত্যায় আসামির জামিন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ১৮, ২০২২, ০৪:১৬ পিএম

৩২ বছর পর রাজীব গান্ধী হত্যায় আসামির জামিন

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের একজন এজি পেরারিভালানকে মুক্তি দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিমকোর্ট।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বুধবার ৩২ বছর পর ওই ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করেন দেশটির শীর্ষ আদালত।

এজি পেরারিভালানকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তে রাজীব গান্ধী হত্যার অপর আসামি নলিনী শ্রীহরণ ও তার স্বামী মুরুগান, একজন শ্রীলংকার নাগরিকসহ বাকি ছয় অভিযুক্তের মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে।

রাজীব গান্ধী হত্যার সময় ১৯ বছর বয়সি পেরারিভালানের বিরুদ্ধে ৯ ভোল্টের দুটি ব্যাটারি সিভারাসনের জন্য কেনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সিভারাসন ছিলেন রাজীব গান্ধী হত্যার পরিকল্পনাকারী ও শ্রীলংকার তামিল বিদ্রোহী সংগঠন লিবারেশন টাইগার অফ তামিল ইলমের সদস্য।

গত ৩২ বছর ধরে তিনি যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা ভোগ করছিলেন। যদিও করোনা পরিস্থিতিতে তিনি বর্তমানে প্যারোলে ছাড়া পেয়েছিলেন। তবে পেরারিভালানের জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রতি মাসে নিয়ম করে তাকে নিকটবর্তী থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রসঙ্গত, রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় অন্যতম দোষী এজি পেরারিভালান বিস্ফোরক পদার্থ সরবরাহ করেছিলেন হত্যাকারীদের। ১৯৯১ সালের ১১ জুন পেরিয়ার থিডাল থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিবিআই।  বিস্ফোরকের জন্য যে ৯ ভল্টের ব্যাটারির প্রয়োজন পড়েছিল, সেটিই সরবরাহ করেছিলেন এই পেরারিভালান। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়। যদিও পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পেরিরাভালানের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে ১৯৯১ সালের ২১শে মে হত্যা করা হয়। দক্ষিণ ভারতে তিনি একটি নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেই আত্মঘাতী বিস্ফোরণে তাঁকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তিনজনকে প্রথমে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিন আসামীকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছিলেন শীর্ষ আদালত। পরে আসামীদের প্রাণভিক্ষার আবেদনে সাড়া দিয়ে তাদের সাজা কমিয়ে সকলকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে রাজীব হত্যায় সাত বন্দি নলিনী শ্রীহরণ, মুরুগান, পেরারিভিলান, রর্বাট পায়াস, রবিচন্দ্রন, সায়ান্থন ও জয়াকুমারের মুক্তির আর্জিতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন।

Link copied!