অক্টোবর ২১, ২০২২, ১১:২৭ পিএম
মাত্র ৪৫ দিন প্রধানমন্ত্রী থাকার পর পদত্যাগ করেছেন লিজ ট্রাস। এর আগে কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এত শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়েননি। তবে ৪৫ দিনের প্রধানমন্ত্রী হয়েও লাভবানই হলেন ট্রাস। ব্রিটেনের আইন অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি বছর তাকে ১ লক্ষ ১৫ হাজার পাউন্ড অর্থ দেয়া হবে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাম্প্রতিকতম বিনিময় মূল্য অনুযায়ী প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার সমান।
প্রধানমন্ত্রী হয়েই ব্রিটেনের মানুষকে করছাড়ের সুবিধা দিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে সেই করদাতাদেরই বোঝা বাড়ালেন লিজ ট্রাস। এখন থেকে করদাতাদের টাকায় প্রতি বছর অন্তত ১ কোটি টাকা করে পাবেন তিনি। এই খরচ বহন করার জন্য ব্রিটেনবাসীকে প্রতি বছর ৭ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকারও বেশি কর দিতে হবে।
ব্রিটেনের এই আইনের নাম পাবলিক ডিউটি কস্ট অ্যালাওয়েন্স (পিডিসিএ)। ১৯৯০ সালে ব্রিটেনের তৎকালীন নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার পদত্যাগ করার পর তার উত্তরসূরি জন মেজর এই নিয়ম চালু করেন। তার পর থেকে ব্রিটেনের বহু প্রধানমন্ত্রীই এই অর্থ পেয়েছেন এবং নিয়েছেন।
এই আর্থিক ব্যয়ভারের ব্যাখ্যা দিয়ে ব্রিটেনের প্রশাসন জানিয়েছে, জনমানসে এই ব্যক্তিত্বদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই তাদের জনহিতকর কাজ এবং সচিব রাখার খরচখরচার জন্য সরকারের তরফে এই ভাতা দেয়া হয়। কিন্তু তার ভার বহন করতে হয় দেশের মানুষকেই।
এদিকে অনেকেই ট্রাসকে এই ভাতা বন্ধ করার জন্য বা তিনি স্বেচ্ছায় এটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটেনের লেবার পার্টির নেতা কেয়ার স্টারমার, আইটিভির গুড মর্নিং ব্রিটেনকে বলেছেন যে ট্রাসের ভাতা প্রত্যাখ্যান করা উচিত। তিনি বলেন, আমি মনে করি, ট্রাস অফিসে ৪৪ দিন কাজ করেছেন, তিনি সত্যিই এটির অধিকারী নন, তার উচিত এটি প্রত্যাখ্যান করা।
অন্যদিকে পাবলিক অ্যান্ড কমার্শিয়াল সার্ভিসেস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মার্ক সার্ওটকা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, এটা 'অদ্ভুত' যে লিজ ট্রাস ১ লক্ষ ১৫ হাজার পাউন্ডের ভাতা পাবেন, যে সময় পাঁচজন বেসামরিক কর্মচারীর মধ্যে একজন ফুড ব্যাংক ব্যবহার করছেন ও ৩৫ শতাংশ মানুষ এক বেলা খাবার এড়িয়ে গেছেন কারণ তাদের কোনো খাবার নেই।
মার্ক আরও বলেন, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর উচিত বেসামরিক কর্মচারীদের পুরস্কৃত করা, যারা এই উর্ধ্ব-মূল্যস্ফীতিতেও কঠোর পরিশ্রম করেন।
সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার