‘ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে বাঁচার জন্য বাধ্য হয়েই নিজের প্রস্রাব পান করেছি’

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৩, ১১:১০ পিএম

‘ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে বাঁচার জন্য বাধ্য হয়েই নিজের প্রস্রাব পান করেছি’

গত ৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় ভোর বেলা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে তুরস্কের ১০ প্রদেশ ও পার্শ্ববর্তী সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশ ধ্বসস্তূপে পরিণত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে হাজারো মানুষ। এদের বেশিরভাগই মারা গেছেন। উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলে যাদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে গণমাধ্যমকে জানাচ্ছেন ধ্বংসস্তূপের নিচে দিনের পর দিন কিভাবে কেটেছে তাদের জীবন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমনই ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।

ভূমিকম্প আঘাত হানার ৯৪ ঘণ্টা পর তুরস্কের একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় কোরকুত নামের এক তুর্কি তরুণকে। কোরকুত গণমাধ্যমকে বলেন, “ আমার শুধু মনে আছে আমি একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছি। ধ্বংসস্তূপের যেখানে আমি আটকে ছিলাম সেখানে ঘুটঘুটে অন্ধকার ছিল। আমার নিজের হাত-পাও দেখতে পাচ্ছিলাম না। কতো দিন-রাত ধরে আটকা ছিলাম তাও জানি না। আমি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য চিৎকার করলেও কেউ শুনতে পায়নি। পানির তেষ্টায় জীবন প্রায় যায় যায়। প্রাণ বাঁচানোর জন্য নিজের প্রস্রাব পান করতে বাধ্য হয়েছি “

১৭ বছর বয়সী ওই তরুণ আরও বলেন, “আটকে যাওয়ার পর মোবাইল ফোন আমার প্যান্টের পকেটেই ছিল। যাতে ঘুমিয়ে না পড়ি তার জন্য আমি প্রতি ২৫ মিনিট পর ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছিলাম।  তবে দু’দিন পর ফোনের চার্জও শেষ হয়ে যায়। একসময় আমি হতাশ হয়ে পড়ি। এমন সময় উদ্ধারকারীদের গলার আওয়াজ শুনতে পাই।  তবে আমার ভয় ছিল, তারা আমাকে শুনতে পাবে না। উদ্ধার অভিযানের ফলে ধ্বংসস্তূপে ধস নামার আশঙ্কাও করেছিলাম আমি।  অবশেষে চারদিন পর আমাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়।”

কোরকুতের মতো এমন হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপে আটকে থেকে কোনোরকমে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ৬দিন, ৮ দিন, ৯দিন, এমনকি  ২৪৮ ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে আটকে পড়াদের। আরও মানুষকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরাও। তবে জীবিত উদ্ধারের  আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।

Link copied!