বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আ.লীগ, মূল সমন্বয়কারী তাপস: তদন্ত কমিশন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৯:৫৬ পিএম

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আ.লীগ, মূল সমন্বয়কারী তাপস: তদন্ত কমিশন

পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আজ রোববার তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। কমিশনের তদন্তে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দলগত সম্পৃক্ততা এবং সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসের ‘মূল সমন্বয়কের’ ভূমিকার অভিযোগ উঠে এসেছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান এবং অন্যান্য সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান জানান, ১৬ বছর আগের এই ঘটনার বহু আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তদন্ত ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তারপরও সাক্ষ্য, নথি, আগের তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট উপাদান সংগ্রহ করে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি—কার কী ভূমিকা ছিল, কেন সেনাবাহিনী সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়নি—সবকিছুই যাচাই করা হয়েছে।”

তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ‘বহিঃশক্তির’ সম্পৃক্ততা এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার ‘শক্ত প্রমাণ’ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

কমিশনের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার প্রতিবেদনের মূল অনুসন্ধান তুলে ধরে বলেন, ঘটনাটি ছিল ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’, যার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন এমপি শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি আরও জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের সহযোগিতা করেন এবং বের হওয়ার সময় তাদের সঙ্গে সংখ্যায় আরও বড় একটি দল যোগ দেয়।

জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার আরও অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। তাঁর মতে, এই ঘটনার দায় নিরূপণে তখনকার সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান—সবার দায়িত্ব ছিল। পাশাপাশি পুলিশ, র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ‘চরম ব্যর্থতা’ও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া কিছু গণমাধ্যম ও সাংবাদিকের অপেশাদার আচরণ এবং সেই সময়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া বিডিআর সদস্যদের সঠিক পরিচয় সংরক্ষণে গাফিলতির কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কমিশন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ, বাহিনীগুলোর কাঠামোগত সংস্কার এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “জাতি দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার সত্য জানতে অপেক্ষায় ছিল। আপনাদের কাজের মাধ্যমে সেই অন্ধকারের অবসান ঘটল। এটি দেশের ইতিহাসে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে থাকবে।”

মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশনে ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, এম আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনিও উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!