জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ‘নেতৃত্ব’ দেওয়া এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে বুধবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার যুবকের নাম ইয়াছিন আরাফাত (২৫)। তিনি ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ি এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ইয়াছিন আরাফাত হত্যাকাণ্ডের সময় লোকজন জড়ো করতে ভূমিকা রাখেন এবং দিপুকে হত্যার পর মরদেহ রশি দিয়ে টেনে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার নেতৃত্ব দেন।
পুলিশের তথ্যমতে, ইয়াছিন আরাফাত কাশর এলাকায় শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি করতেন এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরানো হয়। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরদিন দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ইয়াছিন আরাফাত আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ ১২ দিন তিনি ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করেন এবং আত্মগোপনের অংশ হিসেবে একটি সুফফা মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও শুরু করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নয়জন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।