সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আশুলিয়ার জামগড়ায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান হৃদয়কে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়ার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ। তিনি বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত নাজমা খাতুনের মোবাইল ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও হ্যান্ড পার্স উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে জামগড়ার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আলমগীর কবির, তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন ও তাঁদের নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নাজমার বোন আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আনিসুর রহমান অভিযানটি পরিচালনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জানান, নাজমার সঙ্গে হৃদয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বিষয়টি জানতে পেরে আলমগীর সম্প্রতি জামগড়ায় বাসা পরিবর্তন করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হৃদয় তাঁদের নতুন বাসায় গেলে আলমগীরের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে হৃদয় অন্তঃসত্ত্বা নাজমার পেটে লাথি মারেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং মৃত নবজাতকের জন্ম হয়।
এরপর আলমগীর এগিয়ে এলে হৃদয় গামছা পেঁচিয়ে তাঁকেও শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। পরে বাইরে থেকে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে পিবিআইয়ের তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।