করোনাভাইরাস পরীক্ষায় পজিটিভ ফলাফল আসায় হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে শেষমেষ গাছের ডালে মাচা বানিয়ে সেখানেই আইসোলেশনে থাকছেন ভারতের এক যুবক। সম্প্রতি দেশটির তেলেঙ্গানা রাজ্যের নলগোন্ডা জেলার কোঠানন্দিকোন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সেই চিত্র।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচেছ পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত মৃত্যুর দিকে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। প্রতিদিনই দেশটিতে ৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে আর আক্রান্ত হচ্ছেন তিন লাখের বেশি মানুষ। দেশের ওষুধ সরবরাহ অপ্রতুল, হাসপাতালে করোনা বেড়ের প্রচণ্ড অভাব, অক্সিজেন সিলিন্ডারের হাহাকার-সব মিলিয়ে দেশটিতে করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোঠানন্দিকোন্ডা গ্রামের বাসিন্দা ১৮ বছরের যুবক শিবা গাছের ডালে মাচা বানিয়ে আইসোলেশন পর্ব সারছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, গত ৪ মে শিবার শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়। বিভিন্ন হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার ঘুরে এতটুকু জায়গা হয়নি তার। শিবার বাড়িতেও আলাদা থাকার কোনো ঘর নেই। তার গ্রামে কোনো আইসোলেশন সেন্টারও নেই্। তাই বাধ্য হয়ে সংক্রমণ ছড়ানো এড়াতে বাড়ির গাছের ডালে নিজের আইসোলেশন সেন্টার বানিয়ে সেখানেই্ থাকছেন তিনি।
গাছের মগডালে বসেই গণমাধ্যমকে শিবা বলেন, ‘আমাদের গ্রামে মাত্র দুদিন হলো আইসোলেশন সেন্টার বানানো হয়েছে। কিন্তু সেটা এখনও অনুপযুক্ত। আশপাশের গ্রামগুলোতে আইসোলেশন সেন্টার নেই। এমনকি হাসপাতালও নেই।’
শিবা গণমাধ্যমে আরও বলেন, ‘করোনা সম্পর্কে আমার গ্রামের মানুষরা এখনও সচেতন না। এমনকি তাদের কোনো ধারণা নেই যে, দেশের করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে। আমি করোনায় আক্রান্ত হলে গ্রামের কেউই আমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।’
গাছের ডালে মাচা পেতে আইসোলেশন কেন জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ আমার বাড়িতে আলাদা থাকার মতো কোনো ঘর নেই। আমার গ্রামে যেনো করোনা না ছড়ায় তার জন্য গাছের মগডালে মাচা বানিয়ে থাকছি আর নিজেকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখছি।’