কিডনি বেচে আইফোন কেনা!

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ১৭, ২০২১, ০৪:০৯ পিএম

কিডনি বেচে আইফোন কেনা!

বিশ্বের যেকোনো স্মার্টফোনের চেয়ে আইফোন নিয়েই বোধ হয় সবচেয়ে বেশি মজা করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কিডনি বিক্রি করে আইফোন কেনার ট্রল। চীনের এক বক্তি এ কৌতুককেই যেন সত্যি করে দেখাল।

২০১১ সালে ওয়াং সাংকুন নামের ১৭ বছর বয়সী এক চীনা কিশোর আইফোন কেনার জন্য সত্যি সত্যি নিজের কিডনি বেচে দিয়েছিলেন। সে কিশোরের বয়স এখন ২৫ বা ২৬।

ভাইস সাময়িকীর প্রতিবেদন হতে জানা যায়, ওয়াংয়ের বাড়ি চীনের আনহুই প্রদেশে। অ্যাপলের তৈরি ডিভাইসের প্রতি তীব্র আকর্ষণ ছিল তার । একদিন সে আকর্ষণের বশে প্রায় ৩ হাজার ২৭৩ ডলারের বিনিময়ে নিজের ডান পাশের কিডনিটি বিক্রি করে দেয় সে। কিডনি বিক্রির টাকা দিয়ে একটি “আইপ্যাড ২” মডেলের ট্যাব এবং একটি “আইফোন ৪” মডেলের স্মার্টফোন কিনেছিলেন তিনি।

এক অনলাইন চ্যাটরুমে মানবঅঙ্গ কালোবাজারিদের কাছ থেকে একটি বার্তা পান তিনি। বার্তায় বলা হয়েছিল, তিনি চাইলে শরীরের অঙ্গ বেচে তিন হাজার ডলারেরও বেশি আয় করতে পারেন। সে সময় আইফোন হাতে তোলার স্বপ্নে বিভোর ওয়াং কোনও কিছু না ভেবেই এ বিপজ্জনক প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। এই কথোপকথনের পরপরই, ১৭ বছর বয়সী ওয়াং তার ডান কিডনি অপসারণের জন্য হুনান প্রদেশে একটি অবৈধ অস্ত্রোপচার করেন। কাজটি তার বাবা-মাকে না জানিয়েই করেছিলেন ওয়াং।

ওই সময় ওয়াং বলেছিলেন, ‘দুটি কিডনি দিয়ে কী হবে? একটিই যথেষ্ট।’ তবে এখন একটি কিডনি নিয়ে জীবন ঝুঁকির মধ্যে আছেন ওয়াং।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ওয়াংয়ের অস্ত্রোপচার করার জন্য কয়েক মাসের মধ্যেই বাম কিডনিতে সংক্রমণ দেখা দেয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় সেবা ও বিশ্রাম না পাওয়াও একটি বড় কারণ। তার আরেকটি কিডনি কোথায় গেল চিকিৎসক ও অভিভাবকের এ প্রশ্নের মুখে আইফোনের জন্য কিডনি বিক্রি করার কথা স্বীকার করে সে।

পরে তার অবস্থার এমনই অবনতি হয় যে এখন পুরোপুরি শয্যাশায়ী। নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এ ঘটনায় অবৈধভাবে অঙ্গ বেচাকেনার জন্য গ্রেফতার হয় কালোবাজারিদের নয়জন, পাঁচজনের বিরুদ্ধে গঠন করা হয় অভিযোগ।

 

Link copied!