ডাক্তার যখন সিরিয়াল কিলার, খুন করার পর দেহগুলো খাওয়াতেন কুমির দিয়ে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ৪, ২০২২, ১০:৩০ এএম

ডাক্তার যখন সিরিয়াল কিলার, খুন করার পর দেহগুলো খাওয়াতেন কুমির দিয়ে

পেশায় ডাক্তার। আয়ুর্বেদ নিয়ে স্নাতক স্তরের সার্টিফিকেট বলে পড়ালেখায় তিনি খুবই মেধাবি ছিলেন। পরে ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দেন। অবৈধভাবে বড়লোক হওয়ার আশায় জড়িয়ে পড়েন কিলিংমিশনে। একসময়  নিজেই হয়ে ওঠেন দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার। ৫০ জন টেক্সিচালককে হত্যা করেছেন তিনি। তবে তার মতে এ সংখ্যা একশোরও বেশি হতে পারে। পুলিশ যাতে কোনো প্রমাণ খুঁজে না পায় তার জন্য দেহগুলোকে তিনি খালে ফেলে দিতেন। সেখানে থাকা ক্ষধার্ত কুমিরগুলো দেহগুলো নিমেষে সাবাড় করে দিতো।

ভারতে সিরিয়াল কিলিংয়ের এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা দেশবাসীতো বটেই, যে কেউ শুনলে তার গায়ে কাঁটা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এমনকি, পুলিশ কর্মকর্তারাও যখন তদন্ত শুরু করেন, তখন তাদের সামনে  এমন ভয়াবহ তথ্য আসে যাতে তাঁরাও চমকে গিয়েছেন। ২০২০ সালে দিল্লি পুলিশের হাতে এমনই এক সিরিয়াল কিলার ধরা পড়ে।

ভারতের সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ওই সিরিয়াল কিলার ডাক্তারের নাম দেবেন্দ্র শর্মা ওরফে দেবিন্দর। তবে তিনি ‘ডক্টর ডেথ’ (মৃত্যুর চিকিৎসক) নামে বেশি পরিচিত। পেশায় চিকিৎসক হলেও রোগীদের প্রাণ বাঁচানোর বদলে একের পর এক খুন করেছেন তিনি।

পুলিশ জানায়  জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন দেবেন্দ্র খুব শান্ত মাথায় বলেছিলেন, একটা সময় পর সে খুনের হিসাব রাখা ছেড়ে দিয়েছিল।

সারা জীবনে সে ৫০-এর বেশি খুন করেছে। সেই সংখ্যা ১০০-ও হতে পারে— এমনই জানিয়েছিলেন তিনি। খুনের পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জিজ্ঞাসা করতেই দেবেন্দ্র জানান, বহু দিন ধরেই আর্থিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি।

অর্থ উপার্জনের রাস্তা খুঁজছিলেন। তাই শেষ পর্যন্ত এই পথই বেছে নেন দেবেন্দ্র। বিহার থেকে আয়ুর্বেদ নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা শেষ করার পর ১১ বছর ধরে নিজের ক্লিনিকেই রোগী দেখতেন দেবেন্দ্র। সেই সময় তার আর্থিক পরিস্থিতি খুব একটা ভাল ছিল না।

ডাক্তারি পেশায় থাকাকালীন সে জানত, বেআইনিভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করলে বিপুল পরিমাণ টাকা রোজগার করা যায়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর তিনি ১২৫টি কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতেই তিনি পাঁচ থেকে সাত লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেতেন।

বেআইনি ভাবে টাকা রোজগারের জন্য প্রথমে একটি ভুয়ো গ্যাস এজেন্সিও খুলেছিলেন দেবেন্দ্র। তবে, ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় তিনি কিডনি প্রতিস্থাপন করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

কিডনি পাচার-কাণ্ডের তদন্ত শুরু করলে ২০০৪ সালে দেবেন্দ্র গুরুগ্রাম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। ওই সময় দেবেন্দ্র ও তার দলের সদস্যরা টাকা রোজগারের জন্য আরও নৃশংস পথ বেছে নিয়েছিল।

দেবেন্দ্র ও তার দলের সদস্যরা খোঁজ পেয়েছিল, উত্তরপ্রদেশে ট্যাক্সি বিক্রি করে প্রচুর টাকা পাওয়া যায়। তাই ট্যাক্সিচালকদের অপহরণ করে প্রথমে দলের সদস্যরা তাঁদের খুন করত। পরে সেই ট্যাক্সিগুলি বিক্রি করে ট্যাক্সিপিছু ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পেতেন তারা।

একই বছরে জয়পুরের এক ট্যাক্সিচালককে খুন করার অপরাধে দেবেন্দ্রকে রাজস্থান আদালতের তরফে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি, ২০০৭ সালে ফরিদাবাদের এক ট্যাক্সিচালককে হত্যার অপরাধে দেবেন্দ্র-সহ আরও দুই সদস্য দোষী সাব্যস্ত হয়। পরে, ২১ জন চালককে খুন করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ঠিক তার পরের বছর গুরুগ্রাম আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। দেবেন্দ্র স্বীকার করেন, তিনি ৫০টিরও বেশি খুন করেছেন। ১৬ বছর টানা জেল খাটার পর তাকে ২০ দিনের জন্য প্যারোলে ছাড়া হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ফিরে না এলে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

প্যারোল থেকে ছাড়া পাওয়ার ছ’মাস পর হদিস মেলে দেবেন্দ্রর। পুলিশের দাবি, তিনি  জয়পুর থেকে সোজা দিল্লিতে চল যান। বাপরোলা এলাকায় এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। তারপর জমি বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন দেবেন্দ্র।

তবে লোক ঠকানোর জন্যেই সে এই ব্যবসায় নামে। পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর তিনি জানান, দিল্লিতে আসার পর নতুন ভাবে জীবন শুরু করবেন বলে ভেবেছিলেন। তাই বিয়ে করে নতুন ব্যবসা শুরু।

মৃতদেহগুলি কোথায় লুকিয়ে রেখেছিল-পুলিশের এমন প্রশ্নের জবাবে দেবেন্দ্র জানান, খুন করার পর কাশগঞ্জের হাজারা খালে চালকদের দেহগুলো ফেলে দেওয়া হতো। ওই খালে রয়েছে প্রচুর কুমির।ফলে, মৃতদেহের হদিস পাওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।

নিজে যাতে কোনও ভাবেই ধরা না পড়ে, তার জন্য এত নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিল, যা শুনে পুলিশও অবাক হয়ে যান। এখনও সিরিয়াল কিলারদের তালিকা ঘাঁটলে ‘ডক্টর ডেথ’-এর নাম তালিকার শীর্ষে থাকে।

Link copied!