আগস্ট ১১, ২০২২, ০৮:০৬ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর প্রদেশের পর এবার মহারাষ্ট্রের দুটি ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় আয়কর দপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযানে থরে থরে নগদ টাকা, হিরে, জহরত, সোনাদানা উদ্ধার হয়েছে যার বাজার মূল্য ৪০০ কোটি টাকা। এই টাকা গুনতে ১৩ ঘণ্টা সময় লেগেছে আয়কর দফতরের।
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্লাটে পাওয়া ৫০ কোটি টাকা এর সামনে কিছু নয়।

ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজারসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মহারাষ্ট্রের জালনায় এক স্টিল, টেক্সটাইল ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে আয়কর দপ্তরের কর্মকর্তারা ৫৮ কোটি নগদ টাকা, ৩২ কেজি সোনা, হীরা এবং মুক্তা এবং অনেক সম্পত্তির কাগজপত্র উদ্ধার করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়কর দপ্তর ১ আগস্ট থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে হানা দেয় ডিপার্টমেন্টের নাসিক শাখা এই কাজটি করেছে। মোট পাঁচটি দলে ভাগ হয়ে অভিযান চালানো হয়। ১২০টি গাড়ি ব্যবহার করে পুরো ফিল্মি স্টাইলে অভিযান চালানো হয়। বেনামি টাকা থাকা ব্যবসায়ীকে কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।
জালনায় কর্মরত চারটি স্টিল কোম্পানির লেনদেনে কিছু অনিয়ম রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য পাচ্ছিল আয়কর বিভাগ। এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো প্রস্তুতি নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় বিভাগ। আয়কর দফতরের দল প্রথমে বাড়ি ও কারখানায় অভিযান চালালেও কিছুই পায়নি। এরপর শহরের বাইরে অবস্থিত ফার্ম হাউসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, স্বর্ণ ও হীরাসহ অনেক সম্পত্তির কাগজপত্র পাওয়া যায়।
তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাওয়া টাকা নিয়ে যাওয়া হয় জালনার স্থানীয় এসবিআই শাখায়। এখানে নোটগুলি গণনা করতে প্রায় ১৩ ঘন্টা সময় লেগেছে। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া নগদ গণনা দুপুর ১টায় শেষ হয়।

এর আগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অর্থাৎ ইডি-র অভিযানের পরে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে ৫০ কোটি নগদ উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়াও, উত্তরপ্রদেশের কানপুর-ভিত্তিক সুগন্ধি প্রস্তুতকারক পীযূষ জৈনের বাসায় অভিযান চালিয়ে ১৯৭ কোটি নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।