ভালো কাজ করলে বিনামুল্যে খাবার মেলে যে হোটেলে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২২, ০৫:০০ পিএম

ভালো কাজ করলে বিনামুল্যে খাবার মেলে যে হোটেলে

হুমায়ূন আহমেদের ‘সবুজ ছায়া’ নাটকের একটা চরিত্র আরিফুর রহমানের মনে গেঁথে যায়। নাটকে একটি চরিত্রকে প্রতিদিন একটা ভালো কাজ করতে দেখা যায়। সেই থেকে আরিফুর নিজেও প্রতিদিন একটা করে ভালো কাজ করার চেষ্টা করতে থাকেন। অন্যদেরও ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করতে একপর্যায়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন সংগঠন। ভালো কাজের বিনিময়ে এ সংগঠন এখন মানুষকে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষাগত সহায়তা দিচ্ছে।

সংগঠনটির নাম ভালো কাজের হোটেল। সংগঠনটির নামের সঙ্গে ‘হোটেল’ শব্দটি থাকলেও তা আদতে ‘হোটেল’ নয়। এটি আসলে মানবসেবামূলক একটা সংগঠন। এর উদ্দেশ্য দরিদ্র-অসহায়-ছিন্নমূল মানুষকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তাঁদের সহায়তা করা। ২০০৯ সাল থেকে ভালো কাজ করার পাশাপাশি মানুষকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধের চেষ্টা করে আসছেন আরিফুর ও তাঁর বন্ধুরা।

২০১৯ সাল থেকে তাঁরা প্রতি সপ্তাহে এক দিন ছিন্নমূল-অসহায় মানুষের জন্য রান্না শুরু করে। এ উদ্যোগকে একটা আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে তাঁরা ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ‘ভালো কাজের হোটেল’ নামের সংগঠন গড়ে তোলেন। সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য—ভালো কাজের বিনিময়ে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তা দেওয়া।

 

প্রতিদিন ভালো কাজের হোটেলে আসা ব্যক্তিদের নাম ও বয়স লিখে রাখা হয়। কে কী ভালো কাজ করেছেন, তা–ও লিখে রাখা হয়। সপ্তাহে এক দিন সেরা তিনটি ভালো কাজের ওপর সংগঠনটি পুরস্কার দেয়। আরিফুর জানালেন, ভালো কাজের হোটেলের বর্তমানে চারটি শাখা রয়েছে। চারটি শাখার মধ্য তিনটি ঢাকায়, একটি চট্টগ্রামে। ঢাকার তিনটি ‘হোটেল’ কমলাপুর, বনানী ও হাতিরঝিলে অবস্থিত।

পবিত্র রমজানের সময় কমলাপুর, বনানী, হাতিরঝিলের পাশাপাশি কারওয়ান বাজার ও বাসাবোতে ইফতারের আয়োজন করছে সংগঠনটি। এ ছাড়া চট্টগ্রামেও একই কার্যক্রম চালু আছে। এই ছয়টি স্থানে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার দরিদ্র মানুষকে ইফতারি দিচ্ছে ভালো কাজের হোটেল। এ ছাড়া ২০০ থেকে ৩০০ জনের মধ্যে তারা সাহ্‌রি বিতরণ করছে।

সাধারণ সময়ে এ সংগঠনের উদ্যোগে নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিদিন একবেলা অসহায় মানুষদের খাবার দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে অসহায়, ছিন্নমূল, মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদের সামনে সাহায্যপ্রার্থী অসহায় মানুষদের খাবার দেওয়া হয়। আশপাশের এতিমখানার এতিম শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

সংগঠনটির সহায়তায় ঢাকার বাসাবো ও বাড্ডার পাশাপাশি মাদারীপুরে ৩টি স্কুলে ৭০০ জনের বেশি শিশু বিনা মূল্যে পড়ালেখা করছে। তাদের পুষ্টিকর খাবারও দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সংগঠনটি এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি শিশুকে চিকিৎসায় সহায়তা দিয়েছে। ভালো কাজের হোটেলের বর্তমানে সদস্যসংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০। তাঁদের ‘ডেইলি টেন মেম্বার’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁরা প্রতিদিন ১০ টাকা করে জমা করেন। মাস শেষে সবার কাছ থেকে জমা টাকা সংগ্রহ করে তা সেবার কাজে ব্যয় করে সংগঠনটি। আরিফুর জানালেন, শুরুর দিকে শুধু সদস্যদের সহায়তায় সংগঠনের কার্যক্রম চলত। পরে ভালো কাজের হোটেলের কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী এগিয়ে আসেন, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। ভালো কাজের হোটেলের মূল উদ্যোক্তা আরিফুর। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ-এমবিএ করে এখন ক্ষুদ্র ব্যবসা করছেন।

Link copied!