ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৩, ০৫:০৮ পিএম
বর্তমানে রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন বলে নিজের অন্যরকম পরিচয় দিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।
গতকাল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় একটি হাই স্কুলের শতবর্ষ পূর্তি উৎসবে নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একসময় ছাত্র ছিলাম। টানা চার বছর ওই স্কুলে পড়াশোনা করেছি।”
নিজের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্মৃতিচারণ করে আনিসুল হক বলেন, “আমাকে ১৯৬১ সালে ভিকারুননিসা স্কুলে ভর্তি করা হয়। তখন ওখানে তখন কেজি ওয়ান, কেজি টু, ক্লাস ওয়ান, ক্লাস টুতে ছেলেরা পড়তে পারতো। এর বেশি আর ছেলেরা পড়তে পারতো না। আমাকে যখন সেখানে ভর্তি করা হলো তখন আম্মাকে না দেখলে আমি স্কুল থেকে পালিয়ে চলে আসতাম, আর না হয় স্কুলে কাঁদতাম। পরে আমার মাও ওই স্কুলে চাকরি নিলো। এরপর টানা চার বছর আমি ভিকারুননিসা স্কুলে পড়েছি। পরে সেন্ট জোসেফ হাই স্কুলে ক্লাস থ্রিতে ভর্তি হয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে পড়েছি। এখন এটা কলেজ হয়ে গেছে।”
এর আগে, অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান বদরুল আলম বলেন, “আপনারা শুনে অবাক হলেও এটাই সত্যি যে, আমাদের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ভিকারুননিসা স্কুলের ছাত্র ছিলেন। এক সময় এ স্কুলটি ভিকারুননিসা প্রিপারেটরি স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সেসময় তিনি ওই স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন।’
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ঢাকার সেন্ট জোসেফ হাই স্কুল থেকে ও-লেভেল পাস করেন। পরে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের মাধ্যমে এ-লেভেল সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হন। এ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্পন্ন করে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। পরে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে এলএলএম পাস করেন আইনমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেয়েদের স্কুল হিসেবেই দেশব্যাপী পরিচিত। তবে অনেকেই জানেন না স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘প্রিপারেটরি স্কুল’ হিসেবে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে থেকে কেজি ওয়ান, কেজি টু, ক্লাস ওয়ান, ক্লাস টুতে ছেলেরা পড়তে পারতো। পরবর্তীতে শুধু মেয়েদেরই পড়ানোর বিধান চালু হয়।