মামলার ভয়: সংবাদ সম্মেলন করে বিয়ের কথা জানালেন তরুণী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ১০, ২০২৩, ০৮:২১ পিএম

মামলার ভয়: সংবাদ সম্মেলন করে বিয়ের কথা জানালেন তরুণী

দেশে চার বছর ধরে পছন্দের একটি ছেলের সঙ্গে প্রেম ছিল তরুণীর। পরিবারের সদস্যরা এই প্রেম মেনে নিতে পারেননি। তাই মিথ্যা মামলা দিয়ে ওই ছেলেটিকে হয়রানি করা হয়। তবুও তাঁদের প্রেমের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারেনি তরুণীর বাবা-মা।  পরে ২০১৯ সালের দিকে ওই তরুণীকে সৌদি আরবে নিয়ে জোর করে এক প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেও সংসার করতে পারেননি ওই তরুণী। দেড় বছর পর ২০২১ সালে তিনি দেশে ফিরে পছন্দের সেই ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে ফেরেন। এ ঘটনার পর বাড়িতে তাঁর ওপর নির্যাতন চলছিল। অবশেষে পালিয়ে গিয়ে মনের মানুষটিকেই  বিয়ে করেন ওই তরুণী। আর পরিবারের পক্ষ থেকে যাতে কোনো হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া না হয় তার জন্য বাড়িতে সংবাদ সম্মেলেন ডেকে বিয়ের বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেন।

রাজশাহী নগরের রামচন্দ্রপুর বউবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। তরুণীর নাম ফাতেমা তাবাসসুম খান (২১)। তাঁর স্বামীর নাম ফজলে রাব্বী (২৬)। একই এলাকায় তাঁদের বাড়ি। ফজলে রাব্বী ব্যবসা করেন। চার বছর ধরে চলছিল তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক।

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী নগরের আসাম কলোনি এলাকায় সংবাদ সম্মেলন ডাকেন এই দম্পতি। সংবাদ সম্মেলনে ফজলে রাব্বী জানান, ফাতেমাকে বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো। তাই তিনি এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধু গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ফাতেমাকে বাড়ি থেকে এনেছেন। তারপর রাতেই তাঁরা বিয়ে করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলন ডাকার কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ফাতেমা তাবাসসুম খান বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে এসেছি। এখন শুনছি, আমার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অপহরণের মামলা করা হচ্ছে। আমি জানিয়ে দিচ্ছি, আমাকে কেউ অপহরণ করেনি।’

ফজলে রাব্বী জানান, চার বছর ধরে তাঁদের প্রেম। কিন্তু ফাতেমার মা–বাবা বিয়ে দিতে চাননি। মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করা হয়েছে। এতেও তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক নষ্ট করতে না পেরে ২০১৯ সালের দিকে ফাতেমাকে সৌদি আরবে নিয়ে জোর করে এক প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। ফাতেমা সেখানে সংসার করতে পারেননি। দেড় বছর পর ২০২১ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এর পর থেকে বাড়িতে তাঁর ওপর নির্যাতন চলছিল।

ফজলে রাব্বী আরও বলেন, ‘এখন ফাতেমার পরিবার থেকে হয়তো অপহরণের মামলা করা হবে। পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করবে। জেল খাটতে হবে। এর সবই জানি। সবকিছুর জন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখছি। আর আস্থা রাখছি ফাতেমার ওপর। মামলা হলে ফাতেমা আদালতে গিয়ে বলবে যে কেউ তাকে অপহরণ করে আনেনি। প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে সে স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে এসে বিয়ে করেছে।’

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম  এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাতেই টেলিফোনে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’

Link copied!