যে গ্রামে নতুন বাড়ি তৈরির আগেই সাপের ঘর করতে হয়

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ২৬, ২০২২, ১০:৩৬ এএম

যে গ্রামে নতুন বাড়ি তৈরির আগেই সাপের ঘর করতে হয়

সাপ বরাবরই এক রহস্যময় জাতি। পুরাকালে অনেক উপকথাতেই সাপের বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া গেছে। বলা হয়ে থাকে সাপ সম্মোহন ক্ষমতার সাহায্যে জীবজন্তুকে বশ করে শিকার ধরে। এমনকি সনাতন ধর্মে সাপকে দেবী মা মনসার বাহন হিসেবে পূজা করা হয়। এমনকি মহাদেবের গলাতেও দেখা যায় বাসুকিনাগ কে।

সনাতন ধর্মের স্বয়ং বিষ্ণু শায়িত রয়েছেন শেষ নাগের কোলে, সুতরাং সাপকে যে পুরাকালে অনেক বড় আসনে বসানো হয়েছিল সেই সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। একারণে সাপকে সতানতন ধর্মের লোকের অত্যন্ত ভক্তি করে ও পুজোও দিয়ে থোকে।

সাপকে ভালবেসে, শ্রদ্ধা সহকারে পরিবারেরই এক সদস্য হিসেবে বাড়ির ভিতরে ঠাঁই দিয়েছে মহারাষ্ট্রের শেতপাল গ্রামের বাসিন্দারা। আর সেই কারণেই ওই গ্রামটি এখন  ‘সাপের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। পুণে থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেতপাল গ্রামটির অবস্থান।

এটি প্রায় ১,৭০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে রয়েছে। ২০১১ আদমসুমারি অনুযায়ী, এই গ্রামে মোট ৫১৭ পরিবারের বাস। জনসংখ্যা ২৩৭৪। শুষ্ক জলবায়ুর কারণে নানা প্রজাতির সাপেদের বসবাসের আদর্শ জায়গা এই গ্রাম। এই গ্রামের প্রায় সবারই সাপের প্রতি অগাধ ভক্তি। এই গ্রামে কেউটে, চন্দ্রবোড়া, শাখামুটি-সহ নানা প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে।

ভারতের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইনিউজবাংলা ডট কম’র এক এক প্রতিবেদনে বলা হয়,  শেতপাল গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে সাপেদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কবে থেকে এবং কেনইবা এই ব্যবস্থা ? সেই সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা সম্ভব হয়নি। তবে এখানেই মানুষের সঙ্গেই থাকে কোবরা, গোখরোর মতো বিষাক্ত সাপ। শিশুদেরও তাতে কোনও সমস্যা হয় না। সাপেরাই তাদের খেলার সঙ্গী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় শ’খানেক সাপুড়ে পরিবার থাকে শেতপাল গ্রামে। প্রত্যেকের বাড়িতেই সাপেদের থাকার জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে। একে বলা হয় ‘দেবস্থানম’। এমনকী কেউ নতুন বাড়ি তৈরি করলে এই ‘দেবস্থানম’ আগে তৈরি করে তারপর বাড়ির বাকি স্থানের নির্মাণ কাজ করে থাকেন। যাতে সেখানে নিশ্চিন্তে নাগরাজ থাকতে পারে।

শেতপাল গ্রামের বাসিন্দারা নাগরাজের আরধনা করেন। তাকে পবিত্র মনে করা হয়। দেওয়া হয় পরিবারের সদস্যের মর্যাদা। তাই সাপেদের সঙ্গেই থাকতে পছন্দ করেন। এমনকী সাপটি বিষধর হলেও। এতে কখনও কোনও সমস্যা হয়নি বলেই দাবি তাঁদের।

ওই গ্রামের শিশুরাও ছোটবেলা থেকে এই পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত। দিব্যি কেউটে, গোখরোর মতো সাপের সঙ্গে খেলতে থাকে তারা। যেন কোনও প্রিয় পোষ্য। এখানকার প্রতিটা বাড়িতেই সাপদের থাকার আলাদা ব্যবস্থাও রয়েছে।সাপ ইচ্ছামতো সময়ে ঘরে ঢুকে সেই স্থানে বিশ্রামও নেয়।আবার ইচ্ছা হলে বেরিয়েও যায়। বিশ্রামাগারে  সব সময়ই সাপের খাবারও (দুধ) মজুত রাখা হয়। 

মানুষ আর সাপের এই সহাবস্থান দেখতে অনেকেই শেতপাল গ্রামে ছুটছেন। অনেকের কাছে এই গ্রামটি এখন ‘ভ্রমণ স্পট’ হিসেবেও প্রিয় হয়ে উঠেছে।

Link copied!