জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীভাঙন দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ‘মানবতার বাজার’ বসানো হয়েছে।
এ বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষ অর্ধেক দামে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, মাছ, বেগুন, লবণ, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনতে পারেন। আর যাদের পণ্য কেনার সামর্থ্য নেই তারা বিনা মূল্যে পণ্য নিতে পারছেন।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বসে ‘মানবতার বাজার’।
করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে নদীভাঙন মানুষের অভাব দ্বিগুণ হয়েছে। এসব দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গত ৭ মে ‘মানবতার বাজার’ চালু করেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম আবদুল্লাহ বিন রশিদ। তার এই উদ্যোগ বিত্তশালী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের আর্থিক সহযোগিতায় চলে বাজার।
দৈনিক এই বাজারে প্রায় ৭০০ দরিদ্র মানুষ খাদ্যপণ্য নিতে আসেন। প্রথম দিকে বাজারে সব খাদ্যপণ্য অর্ধেক দামে দেওয়া হতো। কিন্তু নদীভাঙন অঞ্চল হিসেবে এখানে আসা বেশির ভাগ মানুষের সেটুকু সংগতিও নেই। তাই যাদের টাকা নেই, তাদের বিনা মূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়। আর এই বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে লম্বা লাইন ধরে বাজার নেয় নারী-পুরুষ। লাইন থেকে একজন করে স্টলে গিয়ে পছন্দের পণ্য ব্যাগে ভরে নিচ্ছেন। কেউ অর্ধেক দামে আবার কেউ বিনা মূল্যে নিচ্ছেন। তবে বিনা মূল্যে বাজার দেওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক নারী-পুরুষকে অগ্রাধিকার পায়। প্রিয় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ও স্পোর্টিং ক্লাব নামের দুটি তরুণ সামাজিক সংগঠন ব্যবস্থাপনার কাজটি করে।
অর্ধেক টাকা ও বিনা মূল্যে খাদ্যপণ্য পেয়ে দরিদ্র মানুষের মাঝে খুশির আনন্দের যেন শেষ নেই। পণ্য কিনতে আসা দরিদ্র মানুষ এই ধরনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন চালাতে আহ্বান জানান।