আমের কেজি ৩ লাখ টাকা,নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা!

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ২, ২০২২, ০৬:৫৫ পিএম

আমের কেজি ৩ লাখ টাকা,নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা!

আম গাছের নজরদারিতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। কারণ এ কোনো সাধারণ আম নয়। জাপানি এক বিরল প্রজাতির আম এটি। আমটির জাতের নাম মিয়াজাকি। প্রতি কেজি এ আম কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হবে ১০০ কিংবা ২০০ টাকা নয়, ২লাখ ৭০ হাজার টাকা! কখনও কথনও এই জাতের আম বিক্রি হয় ৩ লাখ টাকায়।

ভারতের মধ্য প্রদেশে এমন জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। হিন্দুস্তান টাইমসহ একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মধ্য প্রদেশের লোচা দেব নামে এক কৃষক মিয়াজাকি আমের চাষ করছেন।  ভারতীয় এক কৃষকের দাবি আমটি বেশ বিরল প্রজাতির। দেখেতেও অন্যান্য আমের চেয়ে আলাদা। কিছুটা লালচে আর বেগুনি ধরণের এই আম।

জানা যায়, এর আগে ভারতে এক দম্পতি আম রক্ষার জন্য তার বাগানে সশস্ত্র রক্ষীও নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু আলাদা রক্ষী নিয়োগ করার মত আর্থিক অবস্থা লোচা দেবের না থাকায় রাত জেগে নিজেই আম পাহারা দিচ্ছেন। এ ছাড়া বাগানের চারপাশে লাগিয়েছেন সিসি ক্যামেরা।

আমটি প্রথম দেখা যায় জাপানের কিউসু প্রদেশের মিয়াজাকি শহরে। সেই শহরের নাম অনুসারেই এ আমের নাম রাখা হয়েছে মিয়াজাকি। আন্তর্জাতিক বাজারে এ আমের দাম অনেক। প্রতিটি আমের ওজন ৩৫০ গ্রাম করে হয়।অপূর্ব এই আমের স্বাদ। আর আমের বাইরের লাল রঙ দেখে মোহিত হয়ে যাবেন যে কেউ।

লোচা দেব জানান, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে ২ হাজার টাকা করে চারটি চারা কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর তিনি সেই চারা নিজের বাগানে বসান। আর সেই আমের চারা আর মুকুল দেখতে একেবারে লাইন লেগে যাচ্ছে বাড়ির সামনে।

আলিপুরদুয়ার শহরের পল্লিমঙ্গল ক্লাবের পাশে লোচা দেবের বাড়ি। তিনি আলিপুরদুয়ার ডিআরএম অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। এদিকে তাঁর বাড়ির ওই আম গাছে এবার মুকুলও এসেছে। আর তাতে একদিকে যেমন তিনি খুশি তেমনি রাতের ঘুমও উড়েছে তাঁর। এমন তিন লাখি আম পাহারা দেওয়াটাই তাঁর কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের খাগড়াছড়িতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৬৫ জাতের আমের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে বিদেশি ব্যানানা, কিউ জাই, থ্রি টেস্ট, ফুনাই, লাল ফুনাই, কিং অব চাকপাত, ব্ল্যাক স্টার আম আগে থেকেই চাষ হয়ে আসছে। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে রেড ম্যাঙ্গো বা সূর্যডিম। মিয়াজামি আমকে সূর্যডিম বলেও আখ্যা দিয়ে থাকেন অনেকে। 

দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার  এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন-চার বছর আগে খাগড়াছড়িতে এই আমের গাছের চারা লাগান কৃষক আতিয়ার, সাসিমং, দীপংকর চাকমা, হ্ল্যাশিমং চৌধুরীসহ কয়েকজন। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় হ্ল্যাশিমং চৌধুরীর বাগানে শতাধিক গাছে এই সূর্যডিম আম ধরেছে। এই আমের মনোরম দৃশ্যে সবুজ পাহাড় যেন রঙিন হয়ে উঠেছে। আমের সাফল্যে বিস্মিত কৃষি বিভাগও।

Link copied!