দুর্ঘটনায় আহত একটি গরুর পেট থেকে ৭১ কেজি পরিমাণ প্লাস্টিক ও ধাতব পদার্থ বের করা হয়েছে। ধাতব পদার্থের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক, পলিথিন, ছোট শিশি, সুই, কয়েন, কাঁচের টুকরা, স্ক্রু ও পিন। গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন জায়গায় বিচরণের সময় গরুটি এসব দ্রব্য খেয়েছে বলে মনে করছেন ডাক্তাররা। গত সোমবার অবাক হওয়ার মতো এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগাঁওয়ের ফরিদাবাদে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ফরিদাবাদে একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় গরুটি। পরে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় দেবাশ্রয় পশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা সেবা দিতে আসা পশু ডাক্তাররা খেয়াল করলেন, গরুটি নিজেই নিজের পেটে লাথি মারছে। সাধারণত এই ঘটনা সচরাচর দেখা যায়না। গরুর পেটে ব্যাথা করলে সাধারণত এমন হয়। পরে এক্স-রে ও আলট্রাসনো করার পর ডাক্তাররা দেখতে পান গরুর পেটে অনেক ধাতব পদার্থ রয়েছে। আর এই কারনে গরুটি ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে নিজেই নিজেকে লাথি মারছে।

অপারেশেনের পর গরুর পেট থেকে পাওয়া ধাতব পদার্থ- ছবি হিন্দুস্থান টাইমস।
পরে সাত বছর বয়সী অসুস্থ গরুটির অপারেশন করেন তিন সদস্যের একটি ডাক্তা্র দল। দলের অন্যতম সদস্য ডা. অতুল মাওরিয়া বলেন, দীর্ঘ চারঘন্টা ধরে অপারেশন করে প্লাস্টিক, কাঁচের টুকরাসহ বিভিন্ন ধাতব পদার্থ বের করা হয়। গরুর পাকস্থলির একটা বড় অংশ জুড়ে পলিথিনে ভরা ছিল। তিনি বলেন, অপারেশন সফল হয়েছে। তবে গরুটি এখনও বিপদমুক্ত নয়। আগামী ১০ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে গরুটিকে খুব নিবিঢ়ভাবে পর্যবেক্ষনে রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ডা. মাওরিয়া বলেন, এর আগে গরুর পেট থেকে ধাতব পদার্থ বের করার ঘটনা ঘটেছে। তবে ৭১ কেজি ওজনের ধাতব পদার্থ বের করা কোনোভাবেই ভাল লক্ষণ নয়।
এদিকে, গরুর পেট থেকে ৭১ কেজি ওজনের প্লাস্টিক ও ধাতব পদার্থ বের করার ঘটনায় পশু অধিকার সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো রীতিমত সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
’পিপল ফর এনিমেল’ নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রাভি দুবেই বলেন, মালিকরা দিনের বেশির ভাগ সময় তাদের পশুদের বাড়ির বাইরে রাখে। এসময় গরুসহ অন্যান্য পশু আবর্জনা স্তুপে খাবার খোঁজে। ওই সময় সিদুঁর, কয়েন এমনকি নথের মতো বিষাক্ত পদার্থ গ্রহণ করে। আর এজন্য পশুদের খাদ্যনালীতে সমস্যা দেখা দেয়।
পলিথিনে পঁচা ও বাসী খাবার রেখে তা রাস্তায় বা আবর্জনা স্তুপে না ফেলার আহবান জানিয়ে পশু অধিকার নিয়ে কাজ করা রাভি দুবেই বলেন, আমাদের কৃষিজমি বা বনভূমি পর্যাপ্ত না থাকায় পশুরা কোথায় যাবে? প্রাণিদের নিরাপদ স্বাস্থ্য ও পরিবেশ তৈরিতে নাগরিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে কাজ করা উচিত।’