গাজা, গাঞ্জা, সিদ্ধি, তামাক। কত যে নাম তার! এটা অনেকের কাছে ‘নিষিদ্ধ’ শব্দ মনে হতে পারে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে গাজা কি শুধুই নেশাদ্রব্য?

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় গাঁজাকে এক সময় ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন কৃষিজাত দ্রব্য বলে মনে করা হতো। ইতিহাসবিদদের তথ্য মতে, ১৯১৮ সাল থেকে ৪৭’র দেশভাগের আগ পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫৫ হাজার মণ গাঁজা উৎপাদন করা হতো। এ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হতো প্রায় তৎকালীন ছেষট্টি লক্ষ টাকা।

ব্রিটিশ আমলে বর্তমান নওগাঁয় বাণিজ্যিকভাবে সাত হাজারের বেশি চাষিরা প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে গাঁজা চাষ করতেন। নওগাঁর গাঁজা চাষিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯১৭ সালে গড়ে তোলা হয় গাঁজা উৎপাদনকারী পুনর্বাসন সমবায় সমিতি লিমিটেড।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৭ সালে এরশাদের শাসনামলে বাংলাদেশে গাঁজা চাষ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। সব মন্দের কিছু ভালো রয়েছে, তেমনি গাজার বেশ কিছু অজানা তথ্য তুলে ধরা হল।
১. এক হেক্টর পরিমাণ জমিতে চাষ করা গাঁজা গাছ, ২৫ হেক্টর বনাঞ্চলের সমান অক্সিজেন দেয়। গাছ লাগানোর ৪ মাসের মধ্যে গাঁজা ফল দেয়।
২. এক হেক্টর পরিমাণ জমিতে চাষ করা গাঁজা থেকে যে পরিমান কাগজ উৎপাদন করা যায়, ৪ হেক্টর বনের গাছ সেই একই পরিমাণ কাগজ উৎপাদন করে।
৩. গাজা গাছের তৈরী কাগজ ৩ বার রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে হেম্প পেপার সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে টেকসই।

৫. হেম্প এমন একটি উদ্ভিদ, যা রাসায়নিক বিকিরন দ্বারা দুষিত মাটিকে শুদ্ধ করে ও ক্যানাবিসের চারা বাতাসকে বিশুদ্ধ করে।
৬. হেম্প বা ক্যানাবিজ বা সোজা বাংলায় গাজা, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় চাষ করা যায়, এর জন্য যে শুধু খুব কম পানি প্রয়োজন হয় তাই না, যেহেতু এটি পরজীবী থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, তাই এর কীটনাশকএরও প্রয়োজন হয় না।
৭. হেম্প এর সুনাম টেক্সটাইল এমনকি লিনেন কাপড়েও রয়েছে।
৮. দড়ি, ব্যাগ, জুতা, টুপি উৎপাদনের জন্য গাজার গাছ একটি আদর্শ উদ্ভিদ..
৯. বুলগেরিয়ায় গাঁজা নিষিদ্ধ। কিন্তু দেশটির শিল্প বিকাশে, সরকারী অনুমতি সাপেক্ষে বিনামূল্যে গাঁজা চাষ করা যেতে পারে।
১০. গাঁজা বীজের প্রোটিন মান অনেক বেশি এবং এর মধ্যে থাকা দুইটি ফ্যাটি অ্যাসিড প্রকৃতির অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

১২. যেসব প্রাণী গাঁজা খায় তাদের হরমোন সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হয় না।
১৩. সব প্লাস্টিকের পণ্য গাজার ভাং থেকে তৈরি করা যেতে পারে, ভাং প্লাস্টিক পরিবেশ বান্ধব এবং সম্পূর্ণরূপে বায়োডিগ্রেডেবল।
১৪. হেম্প দ্বারা তৈরি ভবনগুলো তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে এবং এটি টেকসই ও বেশ সস্তা।
১৫। হেম্প দ্বারা তৈরী সাবান এবং প্রসাধনী সামগ্রী পানিকে দূষিত করে না, তাই এগুলো সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব।
১৬. প্রাপ্ত বয়স্কদের ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং উদ্বেগ এবং হতাশার মতো মানসিক রোগের হাত থেকে বাঁচতে নিয়মিত গাঁজা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন যুক্তরোষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।
১৭. সম্প্রতি সাধারণ স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য চিকিত্সার জন্য প্রাথমিকভাবে গাঁজা ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউসি) সান দিয়েগো স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষকরা।
১৮. গাঁজা খেলে খুব খিদে পায় এটা সকলেরই কমবেশি জানা, কিন্তু কেন এমনটা হয় সে কথা কি জানা রয়েছে কি! কারণটা হলো, গাঁজা খেলে শরীরের সব হরমোন গুলি সতেজ হয়ে ওঠে এবং হজম ক্ষমতা দু গুণ বৃদ্ধি পায় ফলে খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায় এবং খিদে পায়।
১৯. গাঁজা খেলে যৌন ক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া ক্যন্সারসহ বিভিন্ন চিকিৎসায় গাঁজার উপকারিতা থাকলেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই গাজার ব্যবহার নিষিদ্ধ।