মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারত। দেশটিতে প্রতিদিনই মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কয়েকগুন করে বেড়ে চলেছে। পুরো দেশটিতে প্রচণ্ড অভাব রয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ করোনা চিকিৎসার অন্যান্য সরঞ্জামের।এমতাবস্থায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশটিতে ছড়িয়ে পড়েছে নানা ধরনেল চিকিৎসা ব্যবস্থ্যা। দেশটির আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ও পণ্ডিত ব্যক্তিরাই আবার ঢাকঢোল পিটিয়ে ওইসব চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রচার করছেন।
ভারতের হিন্দু মহাসভার প্রেসিডেন্ট স্বামী চক্রপাণি মহারাজ এমনই একজন চিকিৎসক ও সংস্কৃতিক পণ্ডিত। করোনা চিকিৎসার ব্যাপারে তার নিজস্ব পথ্য হলো- পুরো শরীরে গোবর আর গরুর প্রস্রাব মেখে শুকিয়ে ফেলার পর গরুর দুধ দিয়ে গোসলা করতে হবে। এমনটি করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে এবং করোনাভাইরাস তাকে ছোঁয় না বলে দাবি করেন তিনি।
চক্রপাণি মহারাজের এই দাবির সঙ্গে সুর মিলিয়ে অনেক সাধারণ লোকের পাশাপাশি চিকিৎসেকরাও গরুর গোবর ও মূত্র মাখতে থাকেন। চিকিৎসকদের এহেন কাণ্ডে বিশ্বাস জন্মে যায় সাধারণ জনগণের। আর তাই গোর-মুত্র মাখার পর গরুর দুধ দিয়ে গোসলপর্বে মানুষের ভীড় বাড়তে থাকে।
গুজরাট রাজ্যের অনেক মানুষের বিশ্বাস, সপ্তাহে একদিন গোমুত্র বা গোবর শরীরে মাখলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং তা করোনাভাইরাস থেকে রক্ষায় সহায়ক হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও এক উপায়ের কথা বলেছিলেন হিন্দু মহাসাভার প্রেসিডেন্ট স্বামী চক্রপাণি মহারাজ। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজ এইটটিন বাংলার খবরে বলা হয়, ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে দেশবাসীকে মহারাজের পরামর্শ, গোমূত্র ও গোবর খেলেই এই ভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে ৷
স্বামী চক্রপাণি মহারাজ ওইদিন গণমাধ্যমে বলেন, ‘যে ব্যক্তি ওম নমাহ শিবায় উচ্চারণ করবেন ও গোবর শরীরে লাগাবেন, তিনি এই ভাইরাস থেকে দূরে থাকবেন।'
তবে হিন্দু মহাসভার প্রেসিডেন্ট স্বামী চক্রপাণি মহারাজের ওই দাবির পক্ষে একমত নয় ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি ডা. জে এ জয়লাল রয়টার্সকে বলেন, ‘গোমুত্র বা গোবর কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে এমন কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ নেই। এর পুরোটাই বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। এসবে বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। প্রাণী থেকে মানবদেহে অন্যান্য রোগবালাই ছড়াতে পারে।’
সূত্র : রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।