কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক থেকে এবার পাওয়া গেছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৯ টাকাসহ বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা-দানা। শনিবার (১৯ জুন) বিকেলে মসজিদের ৮টি সিন্দুক খুলে গণনা শেষে ওই টাকা পাওয়া যায়। এবার ৪ মাস ২৬ দিন পর সিন্দুকটি খোলা হল।
এর আগে সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি দানসিন্দুক খোলা হয়েছিল। তখন সর্বোচ্চ ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সে সময় নগদ টাকা ছাড়াও বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও বেশ কিছু স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, আজ (১৯ জুন) সকাল ৯টায় মসজিদের ৮টি দান সিন্দুক খোলা হয়। সিন্দুক থেকে ১২টি বস্তায় টাকা ভরা হয়। এরপর মেঝেতে রেখে শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনা। টাকা গণনায় মসজিদ ও মাদ্রাসার শতাধিক ছাত্র-শিক্ষক ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কথিত রয়েছে, এই মসজিদে দান করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। আর সে কারণেই প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটির দানসিন্দুকগুলোতে নগদ টাকাপয়সা ছাড়াও স্বর্ণালংকার এবং মূল্যবান দ্রব্যাদি দান করেন। শুধু মুসলিমরা নয়, বরং জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ পাগলা মসজিদে দান করতে আসেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ। দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতসহ জটিল রোগীদের চিকিৎসায় এর অর্থ ব্যয় করা হয়। এবার মসজিদের আয় দিয়ে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে দেওয়া হয়।
পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, গণনা শেষে যে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৯ টাকা পাওয়া গেছে যা রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রাসহ বেশ কিছু অলংকার পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে জমা পড়েছে। এখানে শতকোটি টাকার বেশি অর্থ দিয়ে বড় আকারের একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।